অধিক প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে প্রণোদনার শর্ত শিথিল করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

0

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে শর্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্যাকেজ থেকে একজন গ্রাহককে ঋণ প্রাপ্যতার সমপরিমাণ অর্থ তিন বছরের মধ্যে কয়েক কিস্তিতে দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। তবে কোনো অবস্থায় ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ৩০ শতাংশের বেশি ঋণ দেয়া যাবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে যেন অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা পায় এ জন্য এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ভিত্তিতে ঋণ প্রাপ্যতার সমপরিমাণ অর্থ তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি কিস্তিতে প্রদান করা যাবে। অর্থাৎ ৩০০ টাকার ঋণের অর্থ ব্যাংকগুলো এক সঙ্গে গ্রাহককে না দিয়ে প্রতি বছর ১০০ টাকা করে দিতে পারবে। এতে করে বাকি ২০০ টাকা অন্য ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার সুযোগ পাবে। ফলে অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ঘোষিত প্যাকেজের সুবিধায় ঋণ নিতে পারবে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় ৩০ হাজার কোটি টাকা তহবিল গঠন করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে টাকা জোগানোর জন্য। এই তহবিল থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবে। তবে তাদের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ পরিশোধ করতে হবে, বাকি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ভিত্তিতে প্যাকেজের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে প্রতিটি ঋণ সীমা ও মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়াবলী বর্ণিত রয়েছে। আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে ঋণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে গতিশীল ও পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে মর্মে আশা করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ প্যাকেজের আওতায় সাধারণভাবে ঋণগ্রহীতা/গ্রাহক পর্যায়ে প্রতিটি ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর। বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৮/২০২০ অনুযায়ী ঋণ/বিনিয়োগের প্রাপ্যতার সমপরিমাণ অর্থ কোন গ্রাহকের অনুকূলে এক বছরে প্রদান করা সম্ভব না হলে অবশিষ্ট প্রাপ্য অর্থ আলোচ্য প্যাকেজের অবশিষ্ট মেয়াদের মধ্যে ঋণ হিসেবে প্রদান করা যাবে।

বিদ্যমান ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা/গ্রাহক পর্যায়ে মোট ঋণ/বিনিয়োগের পরিমাণ কোনভাবেই ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ ভিত্তিক ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ মঞ্জুরীকৃত/প্রদত্ত সীমার ৩০ শতাংশের বেশি হবে না। তাছাড়া নতুন ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ প্রাপ্যতা সীমার ৩০ শতাংশের অধিক হবে না।

ব্যাংক কর্তৃক কোন ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতাকে যেভাবেই ঋণ/বিনিয়োগ প্রদান করা হোক না কেন (এককালীন অথবা প্যাকেজের মেয়াদে একাধিক বছরে প্রদত্ত হয়ে থাকলে) একজন গ্রাহকের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এ সার্কুলার লেটারের অনুচ্ছেদ ২(খ)-এ বর্ণিত মোট সীমার মধ্যে প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগের উপর সুদ/মুনাফা ভর্তুকী প্রাপ্য হবেন।

আগের সার্কুলারের বর্ণিত অন্যান্য নির্দেশনাবলী অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Leave a Reply