টাকার প্রচলন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও উদার নীতি প্রয়োজন

1

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া পারভেজ জানতে পারলেন, তারা বাবা গ্রামের বাড়িতে হার্ট অ্যাটাক করে কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন। অর্থাৎ এক্ষুনি তাকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালানো পারভেজ মানিব্যাগ ঘেঁটে সাড়ে পাঁচশর মতো টাকা পেলেন। ট্রেনের টিকিট দেড়শ টাকা, বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে অটো ও রিকশা ভাড়া বাবদ আরো একশ টাকার মতো লাগবে। অর্থাৎ মানিব্যাগে থাকা সাড়ে পাঁচশ টাকা দিয়েই তার বাড়িতে যাওয়া সম্ভব। বাবা হারানোর শোকে কাতর পাগলপ্রায় ছেলেটি হন্তদন্ত হয়ে রেল স্টেশন পৌঁছালেন।

ট্রেন ছাড়তে মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি আছে, অথচ ছেলেটি তখনও টিকিট কাউন্টারে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে। ট্রেন ছাড়ার দুই মিনিট বাকি থাকতে তার কাঙ্ক্ষিত টিকিটটি প্রিন্ট হল, কিন্তু টিকিট কাউন্টারম্যান পারভেজের দেওয়া পাঁচশ টাকার নোটটি ‘চলবে না’ বলে ফেরত দিয়ে এটি বদলে দিতে বললেন! পারভেজের মাথায় যেন বজ্রপাত হল! ভ্যাবাচেকা খাওয়ার মত করে নোটটির এপাশ-ওপাশ উল্টে দেখলেন, নোটটির এক পাশে আধা ইঞ্চি পরিমাণ জায়গায় স্কচটেপ লাগানো আছে। উদগ্রীব মনে কাউন্টারম্যানের কাছে পারভেজ জানতে চাইলেন

– এ টাকাটা চলবে না কেন?
– কোন কারণ বলতে পারব না বাপু, এই টাকা চলবে না, তুমি দেখতে পাচ্ছ না- জোড়াতালি দেওয়া? তুমি এটা বদলে দাও, ব্যস!’, কাউন্টারম্যানের সোজাসাপটা উত্তর।
– এই টাকাটা ছাড়া আমার কাছে ভাড়া দেওয়ার মতো আর কোনো টাকা নেই যে আপনাকে বদলে দিব।’, পারভেজের অসহায় আত্মসমর্পণ!
– ‘না থাকলে ট্রেনে যাওয়ার দরকার নেই, বাসে চলে যাও!’

এই বলে কাউন্টারম্যান পারভেজের পেছনের আরেকজন যাত্রীকে টিকিটটি বাড়িয়ে দিলেন। ইতিমধ্যে ট্রেনের হুইসেল শোনে পেছনের সেই যাত্রী ভোঁ দৌঁড় দিল। আর পারভেজ লাইন থেকে বেরিয়ে হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে অশ্রু বিসর্জন দিতে লাগলো!

পুরো ঘটনাটি কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে আমিও লক্ষ্য করছিলাম। পরে কথায় কথায় ছেলেটির মুখ থেকে তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় পাওয়ার পাশাপাশি তার পিতৃবিয়োগের কথা শুনে আমি নোটটি আমাকে দেখাতে বললাম। নিজে ব্যাংকার হওয়ার সুবাদে নোটটি দেখে আমার বুঝতে অসুবিধা হল না যে, এ নোটটি সচল নোট, এটি চলবে। তাই তাঁর কাছ থেকে নোটটি নিয়ে আমার মানিব্যাগ থেকে তাকে পাঁচটি একশ টাকার নোট বের করে দিয়ে বিদায় নিলাম।

‘ছেঁড়া টাকা’ নিয়ে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাক্ষী আমাকে আরো হতে হয়েছে। নিজেও বিড়ম্বনার শিকার হয়েছি। আমার ধারণা পাঠকও এমন ঘটনার মুখোমুখি কখনো না কখনো হয়েছে। দেশের অধিকাংশ মানুষই লেনদেনে ঝঝকঝকে-তকতকে নোট চায়। পকেটে টাকা থাকা সত্ত্বেও টাকার বিনিময় মূল্য বা উপযোগিতা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন অনেকেই।

কাগুজে নোটের লেনদেনের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে প্রায়ই এমন নাকউঁচু মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। এ জন্য আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থারও দায় যেমন আছে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিরও দোষ আছে। টাকার উদ্দেশ্যই হচ্ছে এক হাত হতে আরেক হাতে বদলের মাধ্যমে বিনিময় মূল্য এবং উপযোগিতা সৃষ্টি করা। একটি কাগুজে নোট বাজারে আসার পর তার জীবনচক্রে কতবার হাত বদল হয় তার কোনো পরিসংখ্যান আমার কাছে না থাকলেও, এটা অনস্বীকার্য যে, একটি নোট তার আয়ুষ্কালে অগণিত হাত বদল হয়। এই অগণিত হাতের মধ্যে যমুনা ফিউচার পার্কের দোকানদার যেমন থাকেন, তেমনি এখানে থাকেন ভিক্ষুক, রিকশাওয়ালা, বাসের হেলপার, মাছ-মাংস ও কাঁচা তরকারি বিক্রেতা, যারা টাকার অত্যন্ত অযত্ন ব্যবহার করেন। বাস্তবিক অর্থে, আমরা প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষই নিজের কাছে থাকা টাকার যত্ন নিই না, আবার অন্য কারও কাছ থেকে সামান্য ত্রুটিযুক্ত টাকা গ্রহণ করতেও চাই না। আর এই কারণে টাকা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।

টাকার হাত বদলের সাথে ধীরে ধীরে টাকার অবয়ব বিকৃত হয়, স্থায়িত্ব নষ্ট হয়। এভাবে এক পর্যায়ে এই টাকার নোটটি কোনো না কোনো হাতে গিয়ে তার বিনিময় ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু সর্বশেষ যার হাতে টাকাটি হস্তগত হয়, তিনি পড়েন বেকায়দায়। তিনি হয়ত টাকাটি গ্রহণ করার সময় টাকার বাহ্যিক অবয়বে টাকাটিকে স্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছিল, কিন্তু তিনিই যখন পরবর্তীতে সেই নোটটি আর চালাতে পারেন না, তখন তিনি হয়রানিতে পড়েন এবং ক্ষেত্র বিশেষে আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হন। এভাবে সর্বশেষ ব্যক্তির হস্তগত হওয়া নোটের পরিণতি বিবেচনা করে অনেকেই অতি সতর্কতার নামে টাকা প্রচলযোগ্য থাকা অবস্থায়ও তা গ্রহণ করতে চায় না, পাছে সে আবার এটি চালাতে না পারে- এই ভয়ে! এ কারণে বহু প্রচলণযোগ্য নোটও অকালেই অপ্রচলণযোগ্য হয়ে পড়ে।

কিন্তু সচল ও অচল নোট প্রসঙ্গে কাগুজে নোটের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান কী বলে, চলুন দেখি। তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে চাইলে টাকার নোটগুলোকে ৩ ভাগে ভাগ করতে হয়- রি-ইস্যুয়েবল নোট (পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট), নন-ইস্যুয়েবল নোট (অপ্রচলনযোগ্য নোট), মিউটিলেটেড নোট (ত্রুটিপূর্ণ নোট)। রিইস্যুয়েবল নোট হচ্ছে সেসব নোট যেগুলো অক্ষত/অবিকৃত, অর্থাৎ পুনরায় প্রচলনে দেওয়ার মত পরিচ্ছন্ন। এসব নোট কোনো আপত্তি ছাড়াই হাত বদল হয় এবং সবাই তাৎক্ষণিকভাবে এর বিনিময় মূল্য প্রদান করে। সকল ব্যাংক নোটের গায়েই ‘চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে’ লেখা থাকলেও জনসাধারণের মাঝে বাস্তবে এ কথাটি কেবল রি-ইস্যুয়েবল নোটের ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে দেখা যায়। নন-ইস্যুয়েবল নোট এবং মিউটিলেটেড নোটের ক্ষেত্রে বাধে যত বিপত্তি। এসব নোটের লেনদেনে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অনীহা এবং এক ধরনের আশংকা কাজ করে। কিন্তু নন-ইস্যুয়েবল নোট এবং মিউটিলেটেড নোট উভয় ধরনের নোটই কিন্তু তফসিলি ব্যাংকের কাউন্টার হতে তাৎক্ষণিকভাবেই বদলে নেওয়া যায় বা শতভাগ বিনিময় মূল্য গ্রহণ করা যায়। তাই নির্বিঘ্ন লেনদেনের স্বার্থে ব্যাংকার এবং গ্রাহক- উভয়েরই জানা প্রয়োজন- কোনগুলো নন-ইস্যুয়েবল নোট (অপ্রচলনযোগ্য নোট) এবং কোনগুলো মিউটিলেটেড নোট (ত্রুটিপূর্ণ নোট)। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিসিএম সার্কুলার নং-০৩/২০১৯ মতে নন-ইস্যুয়েবল নোট (অপ্রচলনযোগ্য নোট) হচ্ছে (১) অত্যধিক ময়লাযুক্ত নোট (২) নোটে অল্প মরিচার চিহ্ন (৩) অল্প রং লাগানো নোট (৪) নোটের উপর অত্যধিক লেখা, একাধিক সিল, অধিক অনুস্বাক্ষর/স্বাক্ষর বা দাগ (৫) সামান্য ছেঁড়া/ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত নোট। মিউটিলেটেড নোট (ত্রুটিপূর্ণ নোট) হচ্ছে (ক) ছেঁড়া/টেপযুক্ত নোট (খ) দুই খণ্ডে খণ্ডিত নোট (গ) বড় ছিদ্রযুক্ত নোট (ঘ) নোটের কোন অংশ অনুপস্থিত (ঙ) তেলযুক্ত নোট।

উপরিউক্ত ৩ ধরনের নোট ছাড়াও আরও ২ ধরনের নোট আছে- ক্লেইমস নোট (দাবিযোগ্য নোট) ও আনএক্সচেঞ্জেবল/ননরিফান্ডেবল নোট (বিনিময় অযোগ্য নোট)। ক্লেইমস নোট (দাবিযোগ্য নোট) হচ্ছে সেসব নোট যেসব নোটের বিনিময় মূল্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রদেয় হয়, যেমন- (১) দুইয়ের অধিক খণ্ডে খণ্ডিত নোট (২) নোটের কোন অংশ অনুপস্থিত এবং অনুপস্থিতির পরিমাণ নোটের আয়তনের ১০ শতাংশ বা এর বেশি (৩) আগুনে পোড়া/ঝলসানো বা আগুনের আঁচ লাগানো নোট (৪) ড্যাম্প/অত্যধিক নরম/অত্যধিক মরিচাযুক্ত নোট (৪) অত্যধিক রং লাগানো নোট। এসব নোট রি-ইস্যুয়েবল নোট, নন-ইস্যুয়েবল নোট ও মিউটিলেটেড নোটের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি ভল্টে পাঠানো/জমা দেওয়া যায় না। আলাদাভাবে নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা পরিপালন করে পাঠাতে হয়। অন্যদিকে বিনিময় অযোগ্য নোট হচ্ছে সেসব নোট যেসব নোটের বিনিময় মূল্য পাওয়া যায় না এবং এদের লেনদেন অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য। জাল নোট, বিল্ট-আপ নোট (একাধিক নোটের বিভিন্ন অংশ সংযোজন করে প্রস্তুতকৃত নোট) এবং যেসব নোটের দাবি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অগ্রাহ্য হয়েছে- সেগুলো হচ্ছে বিনিময় অযোগ্য নোট। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নোটকে বিকৃত করলে সেটিও বিনিময় অযোগ্য নোট বলে বিবেচিত হবে।

যেহেতু নন-ইস্যুয়েবল ও মিউটিলেটেড নোটের ব্যবহার উপযোগিতা শেষ পর্যায়ে থাকে এবং এসব নোট লেনদেন করতে গিয়ে জনসাধারণের মাঝে তর্কের সৃষ্টি হয়, তাই জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘবে এসব নোট তফসিলি ব্যাংক গ্রহণের পর তা আর গ্রাহকদের মাঝে ইস্যু করে না। এসব নোট নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে ধ্বংসের জন্য এবং সমপরিমাণ টাকার নতুন নোট উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে চলে যায়। অনেকেই জানে না এসব নোটের শতভাগ বিনিময় মূল্য সরাসরি ব্যাংকের কাউন্টার থেকেই পাওয়া যায়। তাছাড়া এসব নোট গ্রহণে জনসাধারণকে কোনো আইন বা প্রজ্ঞাপন দিয়ে কিন্তু বারিতও করা হয়নি। তাই এসব নোট গ্রহণে মানুষের আপত্তি থাকা অনুচিত। তবে কোনগুলো ‘সরাসরি বিনিময়যোগ্য নোট’ আর কোনগুলো ‘শর্তসাপেক্ষে বিনিময়যোগ্য নোট অর্থাৎ দাবিযোগ্য নোট’- এভাবে সর্টিং (বাছাই) করা ব্যাংকারদের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে, সাধারণ মানুষের জন্য তো বটেই। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট নোটের বাইরেও কিছু ত্রুটিপূর্ণ নোট পাওয়া যায়, যেমন- ইঁদুরে কাটা নোট, উলো খাওয়া নোট, ওয়াশড নোট, কচলানো নোট ইত্যাদি যাদের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন ব্যাংকাররা। আর সংগত কারণেই এসব নোট গ্রহণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনাস্থা কাজ করে এবং বিতর্কের উদ্রেক করে।

বর্তমানে প্রচলিত নোট রিফান্ড পদ্ধতিতে দাবিযোগ্য নোট ব্যাংকে গ্রাহক/বাহক কর্তৃক আবেদনপত্রসহ জমা করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়। বাংলাদেশ ব্যাংক হতে রিফান্ড পাওয়া সাপেক্ষে গ্রাহককে তা ফেরত প্রদান করা হয়। কিন্তু তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি-দুটো নোট করে নিয়ে যাওয়া যায় না। একসাথে কমপক্ষে ১০০টি নোট নিয়ে যেতে হয়। তাছাড়া যাচাই-বাছাই করে টাকা রিফান্ড করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও ৮ সপ্তাহ সময় নেওয়ার বিধান রয়েছে। শতভাগ সূক্ষ্মতার সাথে নোটগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা ব্যাংকারদের জন্য দূরূহ ব্যাপার। তার উপর আবার আছে এক শ্রেণির নোটের সাথে আরেক শ্রেণির নোট মিশ্রণের অপরাধে তফসিলি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক দণ্ডারোপের ভয়। এতে করে ব্যাংকগুলোর মধ্যেই এসব নোট গ্রহণে অনীহা কাজ করে। গ্রাহকরাও প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার দরুন এসব নোট বিনিময়ের জন্য বিভিন্ন দালালদের স্মরণাপন্ন হয়, নতুবা ভালো নোটের সাথে চালিয়ে দেওয়ার ছলচাতুরীতে লিপ্ত হয়।

তাই আমার মতে, টাকার প্রচলন ও ব্যবহারিক আয়ুষ্কাল বাড়াতে টাকা বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরেকটু উদার হতে হবে। বদলযোগ্য যেকোনো ছেঁড়া-ফাটা বা ময়লাযুক্ত নোট বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেও যেকোনো ব্যক্তি বদলে নিতে পারেন। যাচাই-বাছাই শেষে নির্দিষ্ট সময়ান্তে অবস্থাভেদে ১০০ ভাগ, ৭৫ ভাগ, ৫০ ভাগ রিফান্ড করা হয়। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের মত করে তফসিলি ব্যাংকের নোট বিনিময় (রিফান্ড) ক্ষমতা বাড়ানো উচিত। যেমন, কোনো টাকার দুই-তৃতীয়াংশও যদি অবশিষ্ট থাকে, সে টাকাটিও যেন কিছু ছাড় দিয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করে গ্রাহকরা সরাসরি তফসিলি ব্যাংক হতেই বিনিময় মূল্য গ্রহণ করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। একটি নতুন নোট রঙ পড়ার কারণে অচল হয়ে পড়াটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয় না। তাই টাকা যতক্ষণ পর্যন্ত তার পরিচয় ধরে রাখতে পারে, ততক্ষণ টাকা সচল থাকা উচিত। এজন্য রঙ পড়া নোট, ওয়াশড নোট, ড্যাম্প নোট, কচলানো নোট, মরচেপড়া নোট, আংশিক পোড়া নোট, খন্ডিত নোট- এগুলোর প্রচলন অবাধ করতে হবে- সেটা ব্যক্তি পর্যায়ে এবং ব্যাংক পর্যায়েও।

এজন্য নিয়মিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি সকল ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। নিয়মিত প্রচারণার একটি নির্দিষ্ট সময় পর, ব্যক্তি পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এসব নোট গ্রহণে অনাগ্রহীদের শাস্তি ও জরিমানার আওতায় আনা যেতে পারে। ব্যাংক পর্যায়ে অপ্রচলনযোগ্য কোন নোটের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বিনিময় মূল্য প্রদান করা যাবে, আর কোনগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রদেয় হবে- এ নিয়েও ব্যাংকাররা কিছুটা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। তাই অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে একটি নন-ইস্যুয়েবল বা মিউটিলেটেড বা ক্লেইমস নোট- সেটা মরচেপড়া হোক কিংবা আগুনে পোড়া যাই হোক- এর বিনিময় মূল্য প্রদানের ক্ষমতা সরাসরি তফসিলি ব্যাংকের উপরই ন্যস্ত করে দেওয়া যেতে পারে। নোটের ড্যামেজের মাত্রা বিবেচনায় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বাহকের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক যদি ১০-৩০ শতাংশ ড্যামারেজ আদায় করে অবশিষ্ট মূল্যমান সাথে সাথেই ফেরত প্রদান করে, তাহলে ব্যাংক কর্তৃক এসব টাকার গ্রহণ বাড়বে এবং জনসাধারণের মাঝেও এসব নোটের প্রচলন অবাধ হবে।

লেখক: মোশারফ হোসেন, ব্যাংকার ও কলামিস্ট
ইমেইল: mosharafmau.200117@gmail.com

1 COMMENT

Leave a Reply