ব্যাংকের ভালো ঋণগ্রহীতাদের সুদে ছাড় তুলে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

0

খেলাপি না হয়ে নিয়মিত ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করেন, এমন গ্রাহকদের বছর শেষে মোট পরিশোধিত সুদের ১০ শতাংশ রিবেট প্রদানের বিধান ছিলো। এবার প্রজ্ঞাপন জারি করে ভালো গ্রাহকদের একমাত্র সুবিধাটিও তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন ব্যাংকের বিবেচনায় ভালো গ্রাহক হিসেবে চিহ্নিতদের জন্য বাকি থাকলো শুধুই ‘ধন্যবাদ’। ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বিশেষ পুনঃতফসিল, বিশেষ পুনঃগঠন, সুদ মওকুফ, ডাউনপেমেন্টের শর্ত শিথিলসহ ঋণ খেলাপিদের বিভিন্ন ধরনের ছাড় দিয়ে প্রতিনিয়ত নীতি ছাড় দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংকের ঋণের টাকা নিয়মিত পরিশোধ করেন, এমন গ্রাহকদের জন্য ছিলো না কোন ধরনের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা। বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে ভালো ঋণগ্রহীতাদের উৎসাহিত করতে মোট সুদে ১০ শতাংশ ছাড়ের একমাত্র সুবিধা দিয়ে ২০১৪ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই সুবিধাও তুলে নিয়ে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের দেশের সব ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভালো ঋণগ্রহীতা চিহ্নিত করে তাদের চলমান, তলবি বা মেয়াদীঋণের ক্ষেত্রে প্রতিবছরের সেপ্টেম্বর মাস শেষে আদায়কৃত সুদের ১০ শতাংশ ফেরত (রিবেট) দিতে বলা হয়। তবে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১ এপ্রিল থেকে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ হওয়ায় কোনো গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হলে তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত রিবেট পাবেন। এরপর থেকে আর রিবেট সুবিধা দিতে হবে না। তবে ভালো ঋণগ্রহীতা চিহ্নিত করার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভালো ঋণগ্রহীতা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে নীতিমালা মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে চলমান ঋণ হিসাব সংশ্লিষ্ট বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ও অব্যবহিত পূর্ববর্তী ৪টি ত্রৈমাসিকে অশ্রেণিকৃত-স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় থাকলে এবং মঞ্জুরি বা নবায়নপত্রের শর্তানুসারে ওই ঋণ হিসাবে লেনদেন সন্তোষজনক হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। সংশ্লিষ্ট বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ও অব্যবহিত পূর্ববর্তী ৪টি ত্রৈমাসিকে সব তলবি ঋণ অশ্রেণিকৃত অবস্থায় সমন্বিত হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। মেয়াদী ঋণ হিসাবে গত ১২ মাসের সব কিস্তি নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নিয়মিতভাবে পরিশোধিত হলে ও পূর্ববর্তী ৪টি ত্রৈমাসিকে অশ্রেণিকৃত অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। কোনো ঋণগ্রহীতার একাধিক ঋণ থাকলে প্রতিটি ঋণের জন্য উল্লিখিত শর্তসমূহ পরিপালন করলেই কেবল ভালোগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন তিনি।

সবক্ষেত্রেই কোনো ব্যাংকে গত ১২ মাসে কোনো গ্রাহক বা তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণ থাকলে তাকে ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যৌক্তিক কারণে ঋণ হিসাব প্রথমবার পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের মাধ্যমে নিয়মিত করা হলে উপরে বর্ণিত শর্তাবলি পরিপালন সাপেক্ষে উক্ত ঋণগ্রহীতাকে ভালো হিসেবে বিবেচনা করা যাবে।

এসব শর্তের আলোকে কেউ ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হলে সিআইবিতে ‘ভালো গ্রাহক’ হিসেবে রিপোর্ট করতে হবে। তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত গ্রাহকদের ছবি, প্রোফাইল ইত্যাদির সমন্বয়ে ব্যাংক বিশেষ বুকলেট বা ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে পারবে। এক্ষেত্রে প্রথম প্রকাশের ক্ষেত্রে ভালো ঋণগ্রহীতাদের সংখ্যা অধিক হলে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘসময় ধরে যে সব ঋণগ্রহীতা ভালো তাদের নাম বিশেষ বুকলেটে অগ্রাধিকার পাবে। ব্যাংক বার্ষিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভালো ঋণগ্রহীতাদের স্বীকৃতি বা পুরস্কারও দিতে পারবে।

Leave a Reply