নতুন পদ্ধতিতে ব্যাংক চেক ক্লিয়ারিং শুরু

0

নতুন পদ্ধতিতে ব্যাংকের চেক ক্লিয়ারিং শুরু হয়েছে। গতকাল প্রথম দিনেই নতুন অবস্থায় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৬৬ হাজার চেক নিষ্পত্তি হয়েছে। আর সাড়ে চার শ’ কোটি টাকার ৬০ হাজার ইএফটি (ইলেট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) লেনদেন হয়েছে। নতুন এ সংস্করণে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার দিনে দুইবার নিষ্পত্তি করা হবে। ফলে এর মাধ্যমে বেতন-ভাতাদি, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রদত্ত ভাতাদি, ডিভিডেন্ট ওয়ারেন্ট, বিল ও অন্যান্য পরিশোধ একই দিনে প্রাপকের হিসেবে জমা হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পদ্ধতি ব্যবহার করে আগে থেকেই অনলাইনে চেক লেনদেনসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করছে। কিন্তু ইএফটির আওতায় শুধু ব্যাংকিং লেনদেনের সময়েই ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডাটা আফলোড করতে পারত। এখন ২৪ ঘণ্টাই আফলোড করতে পারবে। এর ফলে ২৪ ঘণ্টাই ইফটির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হবে।

আবার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইএফটি পদ্ধতির মাধ্যমে সরকারি খাতের লেনদেনসহ বেসরকারি খাতের লেনদেন সম্পন্ন হয়। এতে ইএফটি পদ্ধতির ওপর বেশ চাপ পড়ে। অনেক সময় এর মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হতে দেরি হতো। এ কারণে এবার দুটি সেশন চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইফটির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন দ্রুত সম্পন্ন হবে। এর ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়বে। টাকা চলাচল বাড়বে, যা অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করবে।

গত মঙ্গলবার এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক সার্কুলার জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ইএফটি পদ্ধতি সার্বক্ষণিকভাবে চালু রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দুটি সেশন চালু করা হয়েছে। এর প্রথমটি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এবং অপরটি বেলা ২টা ১ মিনিট থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চলবে। এতে লেনদেন করতে ডেভিট ও ক্রেডিট লেনদেন আদালাভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

বিদ্যমান চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রক্ষায় বর্তমানে কার্যরত বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজের আপগ্রেডেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। জানা যায়, বিএসিএইচ নামের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ২০১০ সালের নভেম্বরে কার্যক্রম শুরু করে। এর ফলে ব্যাংকগুলো একে অপরের চেক জমা ও লেনদেন নিষ্পত্তির সুযোগ পাচ্ছে। প্রথম দিকে এক লাখ বা তার বেশি অঙ্কের টাকার চেকের লেনদেন নিষ্পত্তি হতে কমপক্ষে এক দিন সময় লাগত। এখন এক দিনেই তা নিষ্পন্ন হয়ে সুবিধাভোগীর ব্যাংক হিসেবে চলে যাচ্ছে। ইএফটির মাধ্যমে কোনো চেক ছাড়াই অর্থ লেনদেন করা যায়। এতে ইলেকট্রনিক আদেশ দিলেই নির্দিষ্ট দিনে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর হয়ে যায়। এখন বিভিন্ন সরকারি ভাতা, কর্মীদের বেতন, ডিপিএসের টাকা জমাসহ নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পরিশোধ ও জমায় ইএফটি ব্যবহার হচ্ছে। সূত্রঃ নয়া দিগন্ত

Leave a Reply