ব্যাংকার: নিজের অজান্তেই নিজের পায়ে কুড়াল মারছেন না তো?

0

নিজের নিরাপত্তা নিজেকে নিতে হবে। কোন কতৃপক্ষ আপনাকে বলবে না জীবনেকে ঝুঁকিতে ফেলে সার্ভিস দিতে। আবার সমগ্র জাতি একসাথে কাজ বন্ধ করে ঘরে বসে থাকা যাবে না। যুদ্ধকালীন সময়ও কিছু জরুরী সেবা অব্যাহত রাখতে হয়। তাহলে কি করতে হবে? সহজ উত্তর আকল বুদ্ধি খাটাতে হবে। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আমেরিকার সুপার সপ ওয়ালমার্টের বাহিরে ক্রেতাদের লাইন ১ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রেতার বেশি একজনকেও ভিতরে এলাউ করছে না। পশ্চিম বঙ্গের মূখ্য মন্ত্রী মমতা বেনার্জীকে দেখেছি ফুটপাতে সবজি বিক্রেতার সামনে নিজ হাতে ইট ভেঙে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর অন্তর বৃত্ত একে দিতে যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যায়।

তাহলে আমরা কি করছি? আমরা কি নিজের অজান্তেই নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছি না? আমরা এতটা নিশ্চিন্ত কিভাবে হচ্ছি যে আমাদের করোনা হবে না?

তা না হলে কি ভাবে আমরা এতগুলো লোকজনকে সমাগম হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছি যাদের মাঝে করোনার সম্ভাব্য জীবাণুবাহী সদ্য বিদেশ ফেরত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি?

তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তারা সবাই সরকার ঘোষিত কোয়ারান্টাইনে আছেন কিন্তু তাদের সংস্পর্শে আসা তাদের নিকট সম্পর্কের লোকজনরা তো ব্যাংকে আসছেন। সুতরাং বলতেই হবে আমাদের ভুল হচ্ছে বা আমাদের আরও সতর্ক হওয়ার অবকাশ আছে।

সরকার অতি জরুরী আর্থিক লেনদেন অব্যাহত রাখার স্বার্থে ৩ ঘন্টা ব্যাংক খোলা রাখতে বলেছে। তাই বলে ১ হাজার গ্রাহক একসাথে এসে হাজির হলে সবাইকে দুই ঘন্টার মধ্যেই সার্ভিস দিতে গিয়ে নিজের এবং দেশের বিপর্যয় ঢেকে আনা কতটা বুদ্ধি মানের কাজ হবে তা ভেবে দেখতে সংশ্লিষ্ট সকল কতৃপক্ষর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আমার মতে এই মূহুর্তে আমাদের কাজ হবে কোন অবস্থাতেই;

১. নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহকের বেশি একজন গ্রাহকও নিজস্ব ব্যাংকের ভেতরে এলাউ না করা;

২. ব্যাংকের ভেতরে যে কোন মূল্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা;

৩. সুস্থ্য পরিবেশ ঠিক রেখে সর্বোচ্চ যত সংখ্যক গ্রাহকদের সেবা দেয়া সম্ভব এর অতিরিক্ত যারা পরে আসবেন তাদেরকে পরের দিন আসতে বলা;

৪. প্রয়োজনে তিন ঘন্টার বেশি লেনদেন করে হলেও অফিসের অভ্যন্তরীন পরিবেশ ঠিক রাখা। কোন অবস্থাতেই এই মূহুর্তে অফিসের ভিতরে মাছবাজার হতে না দেয়া এবং

৫. অফিসের বাহিরে অপেক্ষমান গ্রাহকেরা যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন সে দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা।

লেখক: মনির উদ্দীন পাটওয়ারী।