দুদক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবেন যেভাবে

0

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সহকারী পরিচালক, উপসহকারী পরিচালক ও কোর্ট পরিদর্শক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে, শেষ হবে ১৯ ডিসেম্বর। দুদকে নিয়োগ প্রস্তুতি নিয়ে অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ জানাচ্ছেন ২০১৫ সালের সহকারী পরিচালক পদে বাছাই পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা, কম্পিউটার টেস্ট ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী রবিউল আলম। তিনি বর্তমানে বিসিএস-সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত।

দুর্নীতি দমন কমিশনে ২৮৮ পদের বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

প্রতি ৩–৪ বছর পরপর দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। দুদকে বাছাই পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা, কম্পিউটার ব্যবহারিক পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, পুলিশ ও গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের পর দেওয়া হয় চূড়ান্ত নিয়োগ। প্রতিটি ধাপ পার হতে আপনাকে হতে হবে পরিশ্রমী ও আত্মপ্রত্যয়ী।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি:

দুদকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বিসিএস নিয়োগ প্রশ্ন ও ব্যাংক নিয়োগ প্রশ্নের সমন্বিত রূপ। দুদক নিয়োগ ২০১৯–এর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আবেদনকৃত প্রার্থীদের ১০০ নম্বরের একটি বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হবে বলা হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বাছাই পরীক্ষার কোনো সিলেবাস দেওয়া হয়নি। তবে দুদকের বিগত দুটি নিয়োগ পরীক্ষার (২০১৩ ও ২০১৫) বাছাই পরীক্ষা পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে বাছাই পরীক্ষায় ৭টি বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয়। ২০১৩ সালে ১০০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে ১০০ নম্বর (প্রতিটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে ১ নম্বর বরাদ্দ) এবং ২০১৫ সালে ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে ১০০ নম্বর (প্রতিটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে ১.২৫ নম্বর বরাদ্দ) প্রশ্ন করা হয়।

১. বাংলা:

২০১৩ সালের বাংলাতে ২০ নম্বরের ২০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন এবং ২০১৫ সালে ২৫ নম্বরের ২০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন করা হয়েছে। পিএসসির বিসিএস ও অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির মতো একই ধাচের প্রশ্ন করা হয়। বিগত প্রশ্ন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাহিত্য অংশে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য এবং আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্ম থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণ অংশের ধ্বনি,শব্দভান্ডার, বাক্য, বাচ্য, সন্ধি, সমাস ও সমার্থক শব্দ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাহিত্য অংশে প্রাচীন যুগ, পিএসসির পুরাতন সিলেবাসের ১১ জন সাহিত্যিক এবং ব্যাকরণ অংশের প্রকৃতি-প্রত্যয়, উপসর্গ, বানান অধ্যায়গুলো থেকে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। বাংলা প্রস্তুতির জন্য বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির বই দেখা যেতে পারে।

২. ইংরেজি:

বাংলা অংশের মতো এখানেও ২০১৩ সালে ২০ নম্বরের ২০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন এবং ২০১৫ সালে ২৫ নম্বরের ২০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন করা হয়েছে। বাছাই পরীক্ষার ইংরেজি অংশের বিগত প্রশ্ন পর্যালোচনায় ইংরেজি প্রশ্ন অনেকটা বিভিন্ন ব্যাংকের প্রশ্নের ধাচে প্রশ্ন করা হয়। বিগত সময়গুলোতে এখানে Question from comprehension, Word substitution, Spelling, Sentence meaning, Rearrange এবং Sentence correction থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি Phrase and Idioms, Subject-verb agreement, Synonyms-Antonyms অধ্যায়গুলোও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিগত সময় ইংরেজি সাহিত্য থেকে কখনো প্রশ্ন করা হয়নি। ইংরেজি অংশে ভালো করার জন্য ইংরেজি শব্দভান্ডারের ওপর আপনার ভালো দখল থাকতে হবে। ইংরেজি অংশের প্রস্তুতির জন্য গ্রামার বা অন্য যেকোনো প্রকাশনীর আইবিএ ভর্তি সহায়ক গ্রামার বই দেখতে পারেন।

৩. গণিত:

অন্যান্য অংশের মতো এখানেও ২০১৩ সালে ২০ নম্বরের ২০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন এবং ২০১৫ সালে ২৫ নম্বরের ২০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন করা হয়েছে। ২০১৩ সালের গণিত প্রশ্ন ইংরেজি মাধ্যমে এবং ২০১৫ সালের গণিত প্রশ্ন বাংলা মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয়েছে। বিগত সময়ে গণিত অংশে Unitary method (ঐকিক নিয়ম), Fraction and Decimal (ভগ্নাংশ ও দশমিক), Pipes cistern (নল ও চৌবাচ্চা), Boat and Stream (নৌকা-স্রোত), Time-distance-speed (সময়-দূরত্ব-গতিবেগ), Series (ধারা), Percentage (শতকরা), Profit and Loss (লাভ–ক্ষতি), Ratio-Proportion (অনুপাত-সমানুপাত), Age (বয়স), Eqution (সমীকরণ), Mensuration (পরিমিতি) থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। গণিত অংশের প্রস্তুতির জন্য ব্যাংক ম্যাথ বই থেকে অনুশীলন করা যেতে পারে।

৪. সাধারণ জ্ঞান:

এখানে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয় থেকে ২০১৩ সালে ২০ নম্বরের ২০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন এবং ২০১৫ সালে ২৫ নম্বরের ২০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন করা হয়েছে। বিগত প্রশ্ন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আন্তর্জাতিক অংশের জাতিসংঘ ও বৈশ্বিক সংগঠন, পরিবেশ সংগঠন, বিভিন্ন দেশ ও স্থানের উপনাম থেকে এবং বাংলাদেশ অংশের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, অর্থনীতি, বিভিন্ন জাতীয় দিবস, ক্রীড়া তথ্য, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে প্রশ্ন করা হয়। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশের জন্য ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও বিরোধপূর্ণ স্থান, যুদ্ধ-উক্তি-সম্মেলন, চলতি ঘটনাবলি এবং বাংলাদেশ অংশের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাস, জনসংখ্যা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা, শিল্প-সংস্কৃতি-সম্মাননা ও চলতি ঘটনাবলি থেকে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। সাধারণ জ্ঞান অংশের প্রস্তুতির জন্য যেকোনো প্রকাশনীর বিসিএস প্রিলিমিনারির প্রস্তুতি বই দেখতে পারেন।

৫. সাধারণ বিজ্ঞান ও কম্পিউটার:

২০১৩ সালে এই অংশে ২০ নম্বরের ২০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন হলেও ২০১৫ সালে সাধারণ বিজ্ঞান ও কম্পিউটারবিষয়ক ২–৩টি প্রশ্ন সাধারণ জ্ঞান অংশে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিগত বছরে সাধারণ বিজ্ঞান অংশের রাসায়নিক বিক্রিয়া, ধাতব ও অধাতব রসায়ন, জৈব যৌগ, মানবদেহ এবং কম্পিউটার অংশে কি–বোর্ডের শর্টকাট, প্রিন্টার, অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার, ফাইল ফরম্যাট, নেটওয়ার্কিং ইত্যাদি অধ্যায় থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ বিজ্ঞান অংশের পদার্থ, আলো, শব্দ, চুম্বক, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া, চিকিৎসাবিজ্ঞান, ভূগোল এবং কম্পিউটার অংশের জন্য কম্পিউটার সংগঠন, ইনপুট-আউটপুট, কম্পিউটার ভাইরাস ও রক্ষণাবেক্ষণ, ইন্টারনেট, মোবাইল প্রযুক্তি থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। সাধারণ বিজ্ঞান প্রস্তুতির জন্য বিসিএস প্রিলিমিনারি সাধারণ বিজ্ঞান এবং কম্পিউটার প্রস্তুতির জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বই দেখতে পারেন।

কার্টেসি: রবিউল আলম, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার)

Leave a Reply