সেলফিন অ্যাপে পাওয়া যাবে ইসলামী ব্যাংকের সব সেবা

আজ ৪০ বছরে পদার্পণ করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। ১৯৮৩ সালের ৩০ মার্চ যাত্রা করা ব্যাংকটি এখন সংশ্লিষ্ট খাতের সাফল্যের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। দীর্ঘ এ পথপরিক্রমার সাক্ষী ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা। ব্যাংকটির দীর্ঘ পথচলা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাছান আদনান

সব মানদণ্ডে ইসলামী ব্যাংক এখন সবার শীর্ষে। এ সাফল্যের মূলমন্ত্র সম্পর্কে জানতে চাই?

সঞ্চয়ের জন্য মানুষ সবসময় নিরাপদ ও বিশ্বস্ত জিম্মাদার খোঁজে। বাংলাদেশের মানুষও এর ব্যতিক্রম নয়। তাছাড়া ধর্মপ্রাণ হিসেবে আমাদের দেশের মানুষের রয়েছে বহুদিনের সুখ্যাতি। ইসলামী ব্যাংক একই সঙ্গে জনগণের এ সবক’টি প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

আরও দেখুন: সফলতার সাথে ইসলামী ব্যাংকের চল্লিশ বছর

আমানতদারিতার ক্ষেত্রে গত চার দশকে ইসলামী ব্যাংকের কোনো বদনাম নেই। এ কারণে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাংকটিকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রহণ করেছে। আবার ধর্মপ্রাণ মানুষকে সুদমুক্ত জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়ায় জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ ইসলামী ব্যাংককে নিজেদের অর্থনৈতিক সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে। আমাদের কর্মীদের সততা, আত্মোৎসর্গের মানসিকতা এবং পেশাদারিত্ব এ ব্যাংককে দেশের মানুষের হূদয়ে জায়গা করে নিতে সহযোগিতা করেছে।

চার দশকে ইসলামী ব্যাংকের অর্জন কী?

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম সুদমুক্ত ব্যাংক হিসেবে ১৯৮৩ সালের ৩০ মার্চ ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। শুরুতে এ ব্যাংকের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল অস্তিত্ব রক্ষার। প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থার বিপরীতমুখী কার্যক্রম নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করা একেবারে সহজ ছিল না। কিন্তু প্রতিষ্ঠার প্রথম দশকেই ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের হূদয়ে জায়গা করে নিতে সামর্থ্য হয়েছিল। এর পরের দশকগুলো ছিল কেবলই সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে চলার। আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি-রফতানি, রেমিট্যান্স আহরণ, শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নসহ প্রতিটি সূচকেই ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান এখন সবার শীর্ষে। দেশের মোট ব্যাংক আমানতের ১০ ভাগ এবং বিনিয়োগের ৯ ভাগ এককভাবে ইসলামী ব্যাংক ধারণ করছে।

আরও দেখুন: খরচ ছাড়াই ইসলামী ব্যাংক থেকে বিকাশে টাকা পাঠান

ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দেশের আর্থিক খাতে স্রোতের বিপরীতে একটি ধারার সৃষ্টি করা। বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতের প্রায় ৩০ শতাংশ ইসলামী ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। গড়ে উঠেছে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ধারার ব্যাংক। দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থার বিদ্যমান জনপ্রিয়তা ইসলামী ব্যাংকেরই অর্জন।

ইসলামী ব্যাংকের আমানত-বিনিয়োগসহ অন্যান্য সূচক সম্পর্কে জানতে চাই?

ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে ১ কোটি ৬০ লাখ গ্রাহকের প্রতিষ্ঠান। দেশের ব্যাংক খাতের মোট গ্রাহক সংখ্যার ১৭ শতাংশই এককভাবে ইসলামী ব্যাংকের। গ্রাহকদের ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকার আমানত আমাদের কাছে রয়েছে। এটি দেশের ব্যাংক খাতের মোট আমানতের প্রায় ১০ শতাংশ। আমরা বিনিয়োগ করেছি ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। দেশের মোট ব্যাংকঋণ বা বিনিয়োগের ৯ শতাংশই ইসলামী ব্যাংকের। আমদানি-রফতানি ও রেমিট্যান্স আহরণের দিক থেকেও ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান সবার শীর্ষে।

শুধু ২০২১ সালে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৪ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে। একই বছর আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে রফতানি হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকার পণ্য। দেশের মোট আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে এককভাবে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার যথাক্রমে ১১ দশমিক ৪ ও ৮ শতাংশ। দেশের রেমিট্যান্স আয়ের এক-তৃতীয়াংশই আসছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ২০২১ সালে আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৫১ হাজার কোটি টাকার। প্রতিদিন ৬০ হাজার গ্রাহকের কাছে গড়ে ১৩৮ কোটি টাকার রেমিট্যান্স পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করছে ইসলামী ব্যাংক।

অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগের দিক থেকেও ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান সবার শীর্ষে। বিশ্বের পাঁচ শতাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট সম্পর্ক স্থাপন করেছে ইসলামী ব্যাংক। শাখা-উপশাখা-এজেন্ট আউটলেট-এটিএম বুথ মিলিয়ে দেশব্যাপী ছয় হাজারের বেশি ইউনিটের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করছি। এখন প্রথমবারের মতো আমরা দেশের বাইরেও শাখা ও প্রতিনিধি অফিস খুলতে যাচ্ছি।

প্রতিষ্ঠার প্রায় চার দশকে দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের অবদানকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

চার দশকের পথচলায় ইসলামী ব্যাংক যেমন নিজে প্রসারিত হয়েছে, তেমনি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রবাসী সেবা, গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অনবদ্য অবদান রেখেছে। এ ব্যাংকের বিনিয়োগে দেশে প্রায় ৮০ লাখের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের তৈরি পোশাক খাতের ভিত্তি তৈরি হয়েছে আমাদের ব্যাংকের বিনিয়োগের মাধ্যমে। বর্তমানে দেশে ছয় হাজারের বেশি শিল্প-কারখানা এবং দুই হাজারের বেশি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান এ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের মোট এসএমই বিনিয়োগের ১১ শতাংশ এককভাবে ধারণ করে ইসলামী ব্যাংক গড়ে তুলেছে প্রায় তিন লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা।

গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল, স্পিনিং মিল, স্টিল রি-রোলিং, লোহা ও ইস্পাত শিল্প, সিমেন্ট, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ শিল্পের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে ইসলামী ব্যাংক। দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক শিল্প গ্রুপের জন্মই হয়েছে এ ব্যাংকের হাত ধরে। এছাড়া দেশের তাঁত শিল্প, শীতবস্ত্র, গামছা শিল্প, শুঁটকি, লবণ, পাদুকা শিল্প, নার্সারিসহ ৪৭টি এসএমই খাতে শতাধিক ক্লাস্টার প্রতিষ্ঠা করেছে ইসলামী ব্যাংক। এসএমই খাতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে ইসলামী ব্যাংককে শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাবান্ধব ব্যাংক হিসেবে পুরস্কৃত করেছে।

২০২১ সালে কৃষি খাতে ২ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহকের কাছে বিনিয়োগ করেছে ইসলামী ব্যাংক। দেশের ২৮টি পাটকলসহ কৃষির বিভিন্ন খাতে শত শত প্রতিষ্ঠান আমাদের বিনিয়োগে গড়ে উঠেছে। দেশের মোট আবাসন খাতের ১০ শতাংশ বিনিয়োগ ইসলামী ব্যাংকের। আর পরিবহন খাতের মোট বিনিয়োগের ২১ শতাংশ ধারণ করেছে ইসলামী ব্যাংক।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামী ব্যাংক প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকার আমদানি আর ৩ লাখ কোটি টাকার রফতানি বাণিজ্য করে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে নেতৃত্ব দিয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অবিচল আস্থা অর্জন করেছে এ ব্যাংক। এককভাবে দেশের এক-তৃতীয়াংশ রেমিট্যান্স আহরণকারী এ ব্যাংকে রয়েছে শক্তিশালী সেন্ট্রাল রেমিট্যান্স প্রসেসিং সিস্টেম। আমরা বলতে পারি, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার প্রদত্ত প্রণোদনার অর্থের বৃহত্তম অংশও আমাদের ব্যাংক বিতরণ করেছে।

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ইসলামী ব্যাংকের কী উদ্যোগ রয়েছে?

বাংলাদেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ইসলামী ব্যাংকই প্রথম আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে এসেছে। এ ব্যাংক ১৯৯৫ সাল থেকেই গ্রামীণ দরিদ্র ও কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় হিসাব খোলার সুযোগ তৈরি করেছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামী ব্যাংক ওই বছরই চালু করে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস), যা বিশ্বের বৃহত্তম ইসলামিক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি। এতে সমন্বিত উন্নয়ন অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে জামানতমুক্ত ক্ষুদ্রঋণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, টিউবওয়েল ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন, চক্ষুশিবির, খতনা কার্যক্রম, কন্যা সন্তানের বিয়ের জন্য অনুদান, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।

প্রকল্পটি বর্তমানে দেশের ২৬ হাজার গ্রামে বিস্তৃত। ২০১২ সাল থেকে এটি নগর-দরিদ্রদের জন্যও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ১৪ লাখের বেশি প্রান্তিক পরিবার এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে। ৯৬ শতাংশ নারী সদস্যের মাধ্যমে কাজ করা এ প্রকল্প দেশে নারীর ক্ষমতায়নেও পালন করছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সিডরদুর্গত এলাকায় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) গৃহীত ‘ফায়েল খায়ের’ পুনর্বাসন প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে জনশক্তি দিয়ে বাস্তবায়ন করেছে ইসলামী ব্যাংক। চলতি বছর আরডিএস প্রকল্পের আকার ও পরিধি বাড়ানোর বিস্তৃত উদ্যোগ আমরা হাতে নিয়েছি। আগামী বছরের মধ্যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। এক্ষেত্রে দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলোকে সম্পৃক্ত করা হবে। এসএমই ও কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ কার্যক্রমও আরো জোরদার করার পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রযুক্তিগত সেবার উত্কর্ষ সাধনে কী ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন?

ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ ব্যাংকের কোর ই-আইবিএস সফটওয়্যার আমাদের ব্যাংকের তরুণ প্রকৌশলীদের দ্বারা নির্মিত। সফটওয়্যারটিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) শ্রেষ্ঠ সফটওয়্যার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহক তাত্ক্ষণিক ডেবিট কার্ড পেয়ে যান। পাশাপাশি সেলফিন অ্যাপ চালু করার সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য অটো জেনারেটেড ভার্চুয়াল ভিসা কার্ড ইস্যু হয়ে যায়। এর মাধ্যমে ই-কমার্স ও কেনাকাটাসহ ভিসা লোগো সমৃদ্ধ কার্ডের সব সুবিধা পাওয়া যায়। নতুন প্রডাক্ট উদ্ভাবন ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবসায় অবদান রাখায় গ্লোবাল পেমেন্ট সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভিসার পক্ষ থেকে আমরা এক্সিলেন্স ইন প্রডাক্ট ইনোভেশন এবং এক্সিলেন্স ইন প্রিপেইড কার্ড বিজনেস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছি।

সেলফিন অ্যাপের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাই। এটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে?

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল সেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে সেলফিন অ্যাপ। এ অ্যাপের মাধ্যমে নিজে হিসাব খোলা থেকে শুরু করে গ্রাহকরা ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন করতে পারবেন। অ্যাপটি ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভিসা ডিরেক্ট সার্ভিসের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক রেমিট্যান্স গ্রহণ করা যায়। ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা যেকোনো দেশ থেকে সরাসরি পেমেন্ট নিতে পারেন সেলফিনে।

এছাড়া ইনস্ট্যান্ট ভিসা কার্ড, ব্রাঞ্চ ছাড়াই ই-কেওয়াইসিভিত্তিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ইএফটি এবং এনপিএসবির মাধ্যমে অন্য ব্যাংকে বা কার্ডে সরাসরি ফান্ড ট্রান্সফার, অ্যাড মানি, রিকোয়েস্ট মানি, ই-কমার্স/মার্চেন্ট পেমেন্ট, ক্রেডিট কার্ডের বিল প্রদান, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, টিকেটিংসহ অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা সেলফিনের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। অ্যাপটিতে ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো কার্ড, অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ‘এমক্যাশ’ যুক্ত করা, যেকোনো ভিসা অথবা মাস্টার কার্ড থেকে ফান্ড ট্রান্সফার, কিউআর কোডের মাধ্যমে কেনাকাটা, মোবাইল রিচার্জ, ব্যালান্স ইনকোয়ারি ও তাত্ক্ষণিক কার্ড/অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট সুবিধা রয়েছে। এছাড়া স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি প্রদান ও গ্রহণ, কার্ড ছাড়াই এটিএম থেকে ক্যাশ আউট, এমক্যাশ ট্রান্সফার, ক্যাশ বাই কোডের মাধ্যমে হিসাববিহীন ব্যক্তিকে টাকা পাঠানোর সুবিধাও রয়েছে সেলফিন অ্যাপে।

যেকোনো বাংলাদেশী নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক সেলফিন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন। সেলফিন অ্যাপের পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যাংকিং, দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ক্রেডিট (খিদমাহ) কার্ড, ডুয়েল কারেন্সিসহ বিস্তৃত কার্ড সার্ভিস আমাদের গ্রাহকদের লেনদেনকে সহজতর করেছে। এছাড়া ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজি (ফিনটেক) ব্যবহার করে বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেল, ই-কমার্স ইত্যাদি প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজির সব দ্বার উন্মুক্ত করার উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। গ্রাহকদের উন্নত প্রযুক্তির আধুনিক সেবা প্রদান ও তাদের এ সেবার সঙ্গে যুক্ত করাই এখন ইসলামী ব্যাংকের অগ্রাধিকার।

ইসলামী ব্যাংকের করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।

ইসলামী ব্যাংকিং মূলত একটি সামাজিক দায়বদ্ধ উদ্যোগ। এ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৭২ লাখ সুবিধাভোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। গরিব, দুস্থ, অসহায় মানুষের কল্যাণে ১৯৮৪ সালে ‘সাদাকাহ ফান্ড’ গঠিত হয়। পরে ব্যাপকভিত্তিক কাজের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন’। দেশে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে ইসলামী ব্যাংক মোট ১ হাজার ৫৯৪ শয্যাবিশিষ্ট ১০টি নিজস্ব হাসপাতাল ও নয়টি কমিউনিটি হাসপাতাল পরিচালনা করছে। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ রোগী এসব হাসপাতাল থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা পাচ্ছেন। চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারে ইসলামী ব্যাংক একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ, একটি হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, একটি ডিপ্লোমা নার্সিং ইনস্টিটিউট, ছয়টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাতটি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করছে।

আগামী পাঁচ বছরে ইসলামী ব্যাংককে কোথায় নিয়ে যেতে চান?

বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে ইসলামী ব্যাংকিং সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা আমাদের লক্ষ্য। আগামী কয়েক বছরে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামকে আমাদের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির আওতায় আনতে চাই। দেশের বেকারত্ব কমাতে আরো নতুন শ্রমঘন শিল্প স্থাপন এবং প্রতিটি সম্ভাবনাময় এসএমই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য আমরা হাত বাড়িয়ে দিতে চাই। আমাদের সেলফিনসহ আধুনিক আর্থিক সেবাগুলোকে দেশ ও প্রবাসের প্রতিটি বাংলাদেশীর হাতে তুলে দিতে চাই। সৌদি আরবে শাখা ও দুবাইতে প্রতিনিধি অফিস চালু করার মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক পরিসরে যাচ্ছি। আগামী কয়েক বছরে আমরা প্রতিটি রেমিট্যান্স উৎসারক দেশে শাখা খুলতে চাই। বিশ্বসেরা এক হাজার ব্যাংকের তালিকায় আমাদের অবস্থানকে প্রথম ৫০০টির মধ্যে নিয়ে আসতে চাই।

Related Articles

One Comment

Leave a Reply

Back to top button