করোনা: প্রণোদনা ও ঝুঁকি ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এজেন্ট ব্যাংকিং ও এটিএম বুথের কর্মীরা

0

বেশি ঝুঁকিতে থেকে ব্যাংকিং সেবা দিলেও প্রণোদনা ও ঝুঁকি ভাতা পাচ্ছেন না এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার কর্মী ও এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীরা।

যদিও এজেন্ট কর্মীরা ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতোই আমানত সংগ্ৰহ, টাকা জমা ও উত্তোলন, রেমিট্যান্স বিতরণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আর করোনা ভাইরাসের কারণে এটিএম বুথের নিরাপত্তা কর্মীরা বুথে নিয়মিত জীবাণুনাশক ব্যবহার করছেন ও গ্রাহকদের হাত জীবাণুমুক্ত করার দায়িত্ব পেয়েছেন।

সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বুথে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হয়। করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও খোলা রয়েছে অনেক বুথ। ফলে গ্রাহকেরা টাকা তুলতে ও রেমিট্যান্স সংগ্রহে শাখার পরিবর্তে এসব বুথে ভিড় করছেন।

সারা দেশে এটিএম বুথ রয়েছে প্রায় ১১ হাজার। এসব বুথের বেশির ভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকছে। বুথের নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্ব বেড়ে গেছে। তাঁরা এখন বুথ জীবাণুমুক্ত করার দায়িত্ব পেয়েছেন। অনেক ব্যাংক এটিএম একবার ব্যবহারের পর জীবাণুমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নিরাপত্তা কর্মীদের কেউ ঝুঁকি ভাতা দিচ্ছে না।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের মধ্যে ব্যাংকারদের সেবা দেওয়া নিয়ে আপত্তি উঠলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণোদনা ও ঝুঁকি ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা হওয়ার পর যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী সশরীরে ১০ দিন অফিস করছেন, তাঁরা পুরো মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ ভাতা হিসেবে পাবেন। এর কম হলে আনুপাতিক হারে পাবেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের কারণে করোনায় আক্রান্ত হলে ব্যাংকার পাবেন ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। মারা গেলে ৫ গুণ। এ ছাড়া চিকিৎসা খরচ পুরোপুরি ব্যাংক বহন করবে।

এর বাইরে রয়ে গেছেন এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেওয়া কর্মীরা। কারণ তাঁরা কেউ ব্যাংকের কর্মী না। যদিও তাঁরাই বেশি ঝুঁকিতে। কারণ গ্রাহকদের সেবা দিতে তাঁদের হাতের আঙুলের ছাপ নিতে হয়। আবার অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না।

মাদারীপুরে একটি ব্যাংকের এজেন্ট বুথে কাজ করেন প্রীতিশ চন্দ্র। তিনি বলেন, এলাকা লকডাউন থাকায় সবাই এখন বুথে আসে। তাঁদের হাতের আঙুলের ছাপ নিতে হয়। ১ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা যায় না। এভাবেই রেমিট্যান্স, ভাতা ও টাকা উত্তোলন সুবিধা দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার পথিকৃত ব্যাংক এশিয়া। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী বলেন, ‘এজেন্টরা ঝুঁকিতে থেকেও সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা কিছু হলেও ভাতা দাবি করে। তাঁদের কীভাবে সুবিধা দেওয়া যায়, এ নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।’

আরফান আলী বলেন, ‘আমরা ব্যাংকের পিয়নদের ঝুঁকি ভাতা প্রদান করছি। সেটা এটিএম বুথেও দেওয়া যায় কি না, তা দেখা হবে।’

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় দ্রুত প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের। ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা মুহাম্মদ ইয়াহিয়া বলেন, ‘এজেন্টরা ব্যাংকের কর্মী নন। তাঁরা ঝুঁকিভাতা ও প্রণোদনা পাবেন না। তবে আমরা চিন্তা করছি, তাঁদের কোনো ধরনের ঝুঁকি ভাতা দেওয়ার যায় কি না। এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

ঢাকার কয়েকটি এটিএম বুথ ঘুরে দেখা গেছে, নিরাপত্তা কর্মীরা জীবাণুনাশক নিয়ে দাঁড়িযে আছেন। গ্রাহকেরা সেবা নেওয়ার আগে ও পরে তাঁদের হাত জীবাণুমুক্ত করছেন। অনেক বুথ ব্যবহারের পরই জীবাণুমুক্ত করতে হচ্ছে। তবে এসব নিরাপত্তা কর্মীর নিজের নেই কোনো নিরাপত্তা পোশাক। তাঁরা অতিরিক্ত ভাতাও পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এটা সত্যি, তাঁরা ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত ও ঝুঁকিতে আছেন। তবে এখনো তাঁদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাংকগুলো চাইলে নিজেরা তাঁদের ভাতা দিতে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো আপত্তি নেই।’

Leave a Reply