৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি তো হলো, এখন?

৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়ে গেল সম্প্রতি। যাঁদের পরীক্ষা ভালো হয়েছে, এখন তাঁদের কী করণীয়; আর যাঁদের পরীক্ষা ভালো হয়নি, তাঁরা কী করবেন। পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএস পরিসংখ্যান ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকারী মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও ৩৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার মাহামুদুল হাসান পারভেজ।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

যাঁদের পরীক্ষা ভালো হয়েছে

৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে যেসব প্রার্থীর পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে, তাঁরা ফলাফলের অপেক্ষায় দেরি না করে এখনই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে দিন। প্রস্তুতির শুরুতেই লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস সংগ্রহ করুন। এই সিলেবাস সামনে রেখেই প্রথমে পুরো পরীক্ষার প্রস্তুতি ছক ঠিক করুন। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) ঘাঁটলেই লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস পেয়ে যাবেন। এরপর আগের বছরগুলোর প্রশ্নপত্র সংবলিত ভালো মানের একটি ডাইজেস্ট বই সংগ্রহ করে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়াই ভালো। পর্যায়ক্রমে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি সহায়ক অন্যান্য বইও সংগ্রহ করে ফেলুন। তবে কেনার সময় একাধিক সহায়ক বইয়ের মধ্যে তুলনা করে নিন।

যাঁদের পরীক্ষা সন্তোষজনক হয়নি

অনেকেই আছেন, যাঁদের প্রস্তুতি ভালো ছিল, কিন্তু প্রিলিমিনারি (প্রিলি) পরীক্ষা আশানুরূপ হয়নি। তাই এই ধাপে পাস করবেন কি না, এ নিয়ে সংশয়ে আছেন। আবার এমনও অনেকে আছেন, যাঁদের প্রস্তুতি ভালো ছিল না, পরীক্ষাও ভালো হয়নি। এই উভয় পক্ষের প্রার্থীদের দরকার নিজেদের নিয়ে নতুন করে ভাবার। পরীক্ষা কিংবা প্রস্তুতি ভালো না হওয়ার কারণগুলো এখনই খুঁজে বের করতে হবে। এ নিয়ে নিজেরাই নিজেদের মূল্যায়ন করতে হবে। নিজেদের কোন কোন বিষয় বা জায়গায় দুর্বলতা আছে, সেগুলো খুঁজে বের করে করণীয় ঠিক করা জরুরি। এরপর সে অনুযায়ী নিজেদের তৈরি করতে হবে পরবর্তী বিসিএস বা নিয়োগ পরীক্ষাগুলোর জন্য। আর কেউ যদি প্রিলিতে পাস-ফেল নিয়ে সংশয়ের মধ্যেই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকেন, সেটাও ভালো। কারণ এই বিসিএসের প্রিলিতে ফেল করলেও সামনে আরো বিসিএস আছে। এ ছাড়া এই প্রস্তুতি অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার জন্যও কাজে লাগবে।

এখন প্রস্তুতি কিভাবে?

প্রিলি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এরপর যখন প্রিলি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে, তখন থেকেই লিখিত পরীক্ষার ‘চূড়ান্ত’ প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। এখন নিজের বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতার কথা মাথায় রেখে জোর প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। যেমন ধরুন, আপনার দুর্বলতা যদি গণিত কিংবা ইংরেজিতে থাকে; তাহলে এগুলোতেই বাড়তি জোর দিন। এই দুটি বিষয়ে বেশির ভাগ প্রার্থীরই দুর্বলতা লক্ষ করা যায়। এগুলোর একটিতেও যদি দুর্বলতা থাকে, তাহলে শুধু বিসিএসই না, বড় যেকোনো চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় টেকা দুঃসাধ্য হয়ে যাবে!

❏ গণিতের দুর্বলতা কাটাতে প্রথমে মাধ্যমিক পর্যায়ের (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) গণিত বইয়ের অঙ্কগুলো বুঝে বুঝে করতে থাকুন। প্রয়োজনে গণিতে ভালো—এমন কারো সহায়তা নিতে পারেন। গাইড বই কিনেও সমাধান দেখতে পারেন। পুরনো বইয়ের দোকানগুলোতে বেসিক গণিত বিষয়ের বই কম দামে পাবেন। এ ছাড়া ইউটিউব থেকে দেখেও সহজে গণিত শিখতে পারেন। গণিতবিষয়ক দেশি-বিদেশি বহু ইউটিউব চ্যানেল আছে, সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন। আর যদি গণিতের বেসিক নিয়ে দুর্বলতা না থাকে বা কেটে যায়, তাহলে বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্য গণিতের সিলেবাস অনুযায়ী ধাপে ধাপে অনুশীলন শুরু করুন।

❏ যদি ইংরেজিতে দুর্বলতা থাকে, তাহলে আজ থেকেই দুর্বলতা কাটানোর চেষ্টা করুন। এর জন্য প্রতিদিনই (বিশেষ করে ভোরবেলায়) নতুন নতুন ইংরেজি শব্দ শিখুন। যেগুলো কঠিন মনে হবে, সেগুলো লিখে রাখুন। ইংরেজি পত্রিকার শব্দগুলো খেয়াল করলে দেখবেন, ঘুরে-ফিরে এই শব্দগুলো প্রায়ই ব্যবহার হয়। এর মানে পত্রিকা ধরে শব্দ শিখলে দরকারি বা গুরুত্বপূর্ণ অনেক শব্দই শেখা হয়ে যাবে। ভোকাবুলারি পড়ার সময় আগের দিনের শেখা ভোকাবুলারিগুলো পরের দিন অন্তত একবার রিভিশন দেবেন। তাহলে সহজে ভুলবেন না! বাজারে ভোকাবুলারির অনেক বই পাবেন।

গ্রামার শেখার জন্য পিসি দাশের Applied English Grammar বইটি নিতে পারেন। এ ছাড়া Cliffs Toefl, Barrons Toefl বই দুটিও গ্রামার শেখার জন্য খুব কাজের। প্রতিদিন নিয়ম করে বই দুটি থেকে অনুশীলন করুন। চাকরির প্রস্তুতিমূলক বাজারের দু-একটি ইংরেজি বইয়ের সাহায্য নিতে পারেন।

❏ বাংলায় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আপনি কয়েক দিন বাংলা একাডেমি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, পাবলিক লাইব্রেরি, বাতিঘরসহ বিভিন্ন পাঠাগার ও লাইব্রেরিতে যেতে পারেন। এখানে বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সব বই পাওয়া যায়। সেগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করলে অথবা কয়েকটি বই নিয়ে পড়লেও আপনার দারুণ কাজে লাগবে। বইয়ের নাম, লেখকের নাম আসে প্রিলি পরীক্ষায়, অন্যদিকে বইয়ের সমালোচনা লিখতে বলা হয় লিখিত পরীক্ষায়।

এ ছাড়া বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য অংশ পড়ুন সহায়ক বই থেকে। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ, হায়াৎ মামুদের ভাষা শিক্ষা বই বুঝে বুঝে পড়ুন।

❏ বাংলাদেশ বিষয়াবলি প্রস্তুতির জন্য একটি নোট খাতা রাখুন। দৈনিক পত্রিকা, বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, পরিসংখ্যান, বিভিন্ন উক্তি ওই খাতায় নোট করে রাখুন। নবম-দশম শ্রেণির পৌরনীতি, ভূগোল, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইও পড়তে পারেন। এই বইগুলো প্রিলির মতো লিখিত পরীক্ষায়ও কাজে দেবে।

❏ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির প্রস্তুতিতে শুরুতে বিভিন্ন মানচিত্র ভালো করে বোঝার চেষ্টা করুন। মানচিত্র ভালোভাবে বুঝতে পারলে প্রিলি-লিখিতর মতো ভাইভা পরীক্ষায়ও কাজে আসবে। এ ছাড়া দৈনিক পত্রিকার আন্তর্জাতিক পাতা, অর্থনীতি পাতা, সম্পাদকীয় পাতা পড়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নোট করে রাখতে পারেন।

❏ বিজ্ঞানের জন্য অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই বুঝে বুঝে পড়ুন। এ ছাড়া দরকার হবে নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান বই। বুঝতে অসুবিধা হলে গুগল অথবা ইউটিউবের সহায়তা নিন।

বিসিএসই কি একমাত্র লক্ষ্য?

বিসিএস পরীক্ষা যদি আপনার কাছে খুব বেশি কঠিন মনে হয়, তাহলে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ঠিক করুন, বিসিএস আপনার যোগ্যতা ও সামর্থ্যের সঙ্গে জুতসই কি না! এমন অনেক প্রার্থী আছেন, যাঁরা বারবার বিসিএস দিয়ে একসময় টিকে যান। আবার এমনও হয়—একের পর এক পরীক্ষা দিতে গিয়ে বয়স শেষ হয়ে যায়, শেষে বিসিএসও হয় না, অন্য চাকরির জন্য চেষ্টা না করায় সেগুলোও হয় না! এটাই বাস্তবতা।

তাই সবার ক্ষেত্রে বিসিএসই যেন একমাত্র লক্ষ্য না হয়। বিসিএসে পদসংখ্যা স্বল্পতা হওয়ার ফলে চাইলেও সবাই বিসিএস ক্যাডার হতে পারবেন না। এটাই সত্য।

এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে নিজের অবস্থা বুঝে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। প্ল্যান-এ, প্ল্যান-বি, প্ল্যান-সি ঠিক করে এগোতে হবে। সব সময় বিকল্প চিন্তা মাথায় রাখতে হবে।

আরও দেখুন:
এক চান্সেই ব্যাংকে চাকরি পেতে কৌশল ঠিক করুন, নিন জোরদার প্রস্তুতি
চাকরির পরীক্ষায় গ্রন্থ-সমালোচনা কীভাবে লিখবেন
ব্যাংক জবস প্রিপারেশন: এক্সপার্টস সাজেশন

Leave a Reply

Back to top button