বিকাশে রেমিটেন্সে বাড়তি ১% প্রণোদনা

0

বিকাশে রেমিটেন্স পাঠালে সরকারের ২ শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি আরও ১ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী বিকাশের মাধ্যমে ১০০ টাকা দেশে পাঠালে যার নামে পাঠাবেন তিনি ১০৩ টাকা তুলতে পারবেন। বাড়তি ৩ টাকার ২ টাকা দেবে সরকার; আর ১ টাকা দেবে বিকাশ। ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া যাবে এই বাড়তি প্রণোদনা।

মহামারীকালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের কমিউনিকেশনস বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম।

শনিবার তিনি বলেন, “করোনাভাইরাস মহামারীকালেও প্রবাসীরা দেশে বেশি বেশি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে আমরা সরকারের ২ শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি ১ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছি।”

তিনি বলেন, বছরের শেষে এবং শুরুতে (ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস) প্রতিটি পরিবারে বাড়তি টাকার প্রয়োজন হয়। এই দুই মাসে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি খরচ (বছরের শেষে সব বকেয়া শোধ এবং নতুন ক্লাসে ভর্তির জন্য বেশি টাকা) হয়।

“এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা এই দুই মাসে সরকারি ২ শতাংশ প্রণোদনা সাথে আরও ১ শতাংশ ক্যাশ বোনাস দিচ্ছি।” এই ১ শতাংশ প্রণোদনার পুরোটাই বিকাশ থেকে দেওয়া হবে বলে জানান ডালিম।

বিকাশের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের ৯৩টি দেশ থেকে ৪২টি মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান হয়ে বাংলাদেশের ৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কোটি বিকাশ গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে রেমিটেন্স পাঠিয়ে এই ক্যাশ বোনাস পেতে পারেন প্রবাসীদের স্বজনরা।

১০ হাজার টাকা বা এর চেয়ে বেশি যেকোন পরিমান রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। একজন গ্রাহক অফার চলাকালীন সময়ে মাসে দুই বার করে মোট চার বার এবং মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা করে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ টাকা বোনাস উপভোগ করতে পারবেন।

মহামারীর এই সময়ে ঘরে বসেই যেকোন সময় যেকোন স্থান থেকে রেমিটেন্স গ্রহণসহ সরকারি ২ শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি বিকাশের আরও ১ শতাংশ ক্যাশ বোনাস প্রবাসী এবং তার স্বজনদের জন্য বাড়তি স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করেন বিকাশ কর্মকর্তারা।

গত রোজা ও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ ধরনের বাড়তি প্রণোদনা দিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। যে সব প্রবাসী অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন, তাদের স্বজনরা সরকারের ২ শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি বাড়তি ১ শতাংশ প্রণোদনা পেয়েছিলেন। অর্থাৎ ১০০ টাকা পাঠানোর বিপরীতে ১০৩ টাকা তুলতে পেরেছিলেন তাদের স্বজননরা।

রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল সরকার। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও একই হারে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ (১৮.২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

আর চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) পাঠিয়েছেন ১০ দশমিক ৯০ বিলিরয়ন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি।

শনিবার বিকাশের সংবাদ ‍বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সময় নষ্ট করে কোথাও না গিয়ে প্রবাসীরা অনলাইন বা ইন্টারনেট অথবা মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে ট্রান্সফার করে ব্যাংকিং চ্যানেল হয়ে মুহুর্তেই তার প্রিয়জনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে রেমিটেন্স পাঠিয়ে দিতে পারবেন।

“আর সেই টাকা দেশে প্রিয়জনেরা ব্যাংকে গিয়ে রেমিটেন্স তোলার পরিবর্তে বাড়ির কাছের এজেন্টের কাছ থেকে যেকোন সময় ক্যাশ আউট করতে পারবেন।”

এমনকি বিভিন্ন ইউটিলিটি সেবার বিল পরিশোধ, টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালের খরচ পরিশোধ, কেনাকাটা করাসহ অন্যান্য সেবা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই নিতে পারেন গ্রাহক।

“এসব সুবিধার কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যাংকিং চ্যানেল হয়ে বিকাশে রেমিটেন্স পাঠানোর সেবা,” দাবি করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে যে প্রবাসীরা দূর থেকে প্রিয়জন ও দেশের জন্য রেমিটেন্স পাঠান, তাদের কিছুটা আনন্দ দিতে বিকাশ আগামী ১৮ ডিসেম্বর একটি অনলাইন কনসার্টের আয়োজন করেছে। যেখানে সংগীত পরিবেশন করবেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীরা।

এই কনসার্ট চলাকালীন সময়ে প্রবাসীরা তিনটি সহজ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেশে থাকা তার প্রিয়জনদের জন্য জিতে নিতে পারবেন টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন সহ ক্যাশ বোনাস। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকিং চ্যানেল হয়ে বৈধভাবে দেশে বিকাশের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠানোর সেবা চালু হয়।

Leave a Reply