হোমব্যাংকিংব্যাংক সার্কুলারছোট-বড় সব ঋণে ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৫% মরাটরিয়াম

ছোট-বড় সব ঋণে ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৫% মরাটরিয়াম

বৃহৎ শিল্প, এসএমই, কৃষি ঋণসহ সকল ধরনের ছোট বড় ঋণে পরিশোধিত ঋণের সময় বেঁধে ২৫% থেকে শুরু করে ৭৫% পর্যন্ত চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত (মরাটরিয়াম) সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (২২ জুন) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি সার্কুলার ইস্যু করে সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জানিয়েছে।

নতুন এ সুবিধায় ‘বৃহৎ শিল্প’ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতরণকৃত টার্ম লোনের যেগুলো ১ এপ্রিল আনক্লাসিফাইড রয়েছে, সে ঋণের বিপরীতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পরিশোধিত ঋণের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ন্যূনতম ৬০ শতাংশ, এবং অক্টোবর হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ চলতি বছরের মধ্যে পরিশোধ করলে খেলাপি থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

তবে সুবিধাপ্রাপ্ত কিস্তিসমূহের বাকি টাকা এ ঋণ মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী এক বছরের মধ্যে একই কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

ইসলামী ব্যাংকসমূহ তাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একই নীতিমালা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একইসঙ্গে সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণের সুদ/মুনাফা বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তীসময়ে নির্দেশনা দেবে।

এছাড়া, সিএমএসএমই খাতে ও কৃষি খাতে বিতরণকৃত টার্ম ঋণের যা আনক্লাসিফাইড রয়েছে, সেই ঋণের এপ্রিল হতে জুন পর্যন্ত পরিশোধিত ঋণের ২৫ শতাংশ, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ শতাংশ এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ন্যূনতম ৪০ শতাংশ চলতি বছরের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করলে শ্রেণীকরণ করা যাবে না।

এছাড়া ১ এপ্রিল পর্যন্ত বৃহৎ শিল্প, সিএমএসএমই, ও কৃষি খাতে যেসব ডিমান্ড লোন আনক্লাসিফাই ছিল তা ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে তিন কিস্তিতে পরিশোধিত হলে সেই ঋণও খেলাপি হিসেবে দেখানো যাবে না।

সার্কুলারে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় কোভিড-এর সংক্রমণ বৃদ্ধি, দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, এবং বিশ্বে যুদ্ধাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্যের দামবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণগ্রহীতাদের ঋণের টাকা পুরোপুরি পরিশোধে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন নির্দেশনা দিয়েছে।

যদিও কোভিড-এর কারণে ২০২০ সালে ঋণের এক টাকা পরিশোধ না করেও খেলাপি থেকে রক্ষা পাওয়ার নিদর্শন রয়েছে। এর পরের বছর মাত্র ঋণের ১৫ শতাংশ পরিশোধ করে খেলাপি থেকে মুক্তি পেয়েছে গ্রাহকেরা। সম্প্রতি সেই সুবিধা চেয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার আবেদন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন সুবিধা দেয়।

এছাড়া সার্কুলারে বন্যা কবলিত জেলায় (সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম) কৃষিখাতে বিতরণকৃত ঋণের চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো টাকা পরিশোধিত না করলে সেই ঋণ খেলাপি করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও দেখুন:
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা
বন্যাকবলিত এলাকায় সব ব্যাংকের শাখা আপাতত বন্ধ

এছাড়া ওই অঞ্চলে সিএমএসএমই খাতে বিতরণকৃত (টার্ম লোন) চলতি বছরের এপ্রিল হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে প্রদেয় কিস্তিসমূহের ন্যূনতম ২৫ শতাংশ চলতি বছরের মধ্যে পরিশোধ করলে খেলাপি থেকে মুক্তি পাবে।

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন

Leave a Reply

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট