৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র

1

সঞ্চয়পত্র একটি সঞ্চয় স্কীম বা ফিক্সড ডিপোজিট। বাংলাদেশ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে জনগণকে সঞ্চয়ী হতে উদ্বুদ্ধ করা ও বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় জাতীয় সঞ্চয় স্কীমের মাধ্যমে আহরণ করার উদ্দেশ্যে এবং সাধারনের নির্ঝঞ্ঝাট অর্থ বিনিয়োগের পথ প্রশস্থ করার জন্য জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সৃষ্টি।

আগের পোস্টে আমরা সঞ্চয়পত্র বা জাতীয় সঞ্চয়পত্র কি, সঞ্চয়পত্রের প্রকারভেদ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার, সঞ্চয়পত্রের প্রকারভেদ সহ আরো কিছু জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আজকের পোস্টে ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

প্রবর্তনঃ
– ১৯৭৭ খ্রিঃ

মূল্যমানঃ
– ১০ টাকা;
– ৫০ টাকা;
– ১০০ টাকা;
– ৫০০ টাকা;
– ১,০০০ টাকা;
– ৫,০০০ টাকা;
– ১০,০০০ টাকা;
– ২৫,০০০ টাকা;
– ৫০,০০০ টাকা;
– ১,০০,০০০ টাকা;
– ৫,০০,০০০ টাকা এবং
– ১০,০০,০০০ টাকা।

কোথায় পাওয়া যায়ঃ
– জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো,
– বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তফসিলী ব্যাংকসমূহ এবং
– ডাকঘর থেকে ক্রয় ও নগদায়ন করা যায়।

মেয়াদ কাল:
– ৫ (পাঁচ) বছর।

মুনাফার হারঃ
মেয়াদান্তে মুনাফা ১১.২৮%। তবে মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়ন করলে;
– ১ম বছরান্তে ৯.৩৫%,
– ২য় বছরান্তে ৯.৮০%,
– ৩য় বছরান্তে ১০.২৫% এবং
– ৪র্থ বছরান্তে ১০.৭৫% হারে মুনাফা প্রাপ্য হবে।

যারা ক্রয় করতে পারবেনঃ
❏ সকল শ্রেণী ও পেশার বাংলাদেশী নাগরিক;
❏ আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ (অংশ-২) এর বিধি ৪৯-এর উপ-বিধি(২) এ সংজ্ঞায়িত স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল এবং ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ এর ১৯ নং) অনুযায়ী ভবিষ্য তহবিল;
❏ আযকর আধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ৬ষ্ঠ তফশিল এর পার্ট এ এর অনুচ্ছেদ ৩৪ অনুযায়ী মৎস খামার, হাঁস-মুরগীর খামার, পেলিটেট পোলট্রি ফিডস উৎপাদন, বীজ উৎপাদন, স্থানীয় উৎপাদিত বীজ বিপণন, গবাদি পশুর খামার, দুগ্ধ ও দুগ্দজাত দ্রব্যের খামার, ব্যাঙ উৎপাদন খামার, উদ্যান খামার প্রকল্প, রেশম গুটিপোকা পালনের খামার, ছত্রাক উৎপাদন এবং ফল ও লতা পাতার চাষ হতে অর্জিত আয়-যা সংশ্লিষ্ট উপ-কমিশনার কর্তৃক প্রত্যায়নকৃত।
❏ নাবালকের পক্ষেও ক্রয় করা যায়।

ক্রয়ের ঊর্ধ্বসীমাঃ
✰ ব্যক্তির ক্ষেত্রেঃ একক নামে ৩০ লক্ষ অথবা যুগ্ম-নামে ৬০ লক্ষ টাকা।
✰ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেঃ ঊর্ধ্বসীমা নেই।

৫ বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্র অন্যান্য সুবিধাঃ
✰ এক মেয়াদীর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃবিনিয়োগ সুবিধা বিদ্যমান;
✰ নমিনী নিয়োগ করা যায়;
✰ ক্রেতা মৃত্যুবরন করলে নমিনী যেকোন সময় সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারেন।
✰ নমিনী ইচ্ছা করলে মেয়াদপূর্তি করেও সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারবে;
✰ সঞ্চয়পত্র এক অফিস হতে অন্য অফিসে স্থানান্তর করা যায় (সঞ্চয়পত্র ব্যুরো হতে সঞ্চয় ব্যুরো, ব্যাংক হতে ব্যাংক এবং ডাকঘর হতে ডাকঘর);
✰ সঞ্চয়পত্র হারিয়ে গেলে, চুরি হলে, পুড়ে গেলে বা কোন কারনে বিনষ্ট হয়ে গেলে ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা যায়।
সূত্রঃ বাংলাদেশ সঞ্চয় অধিদপ্তর।

1 COMMENT

Leave a Reply