ডলার লেনদেন করতে ৬৬৬ এডি শাখার অনুমোদন চায় ২৩ ব্যাংক

বৈদেশিক মুদ্রা তথা ডলার লেনদেন করতে এ পর্যন্ত ২৩টি ব্যাংক ৬৬৬টি অথরাইজড ডিলার (এডি) শাখা স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে। ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর শাখা বাড়ানোর মতো উদ্যোগের পর এসব আবেদন জমা পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় সেবার পরিধি বাড়াতে ব্যাংকের বিদ্যমান শাখার পাশাপাশি অন্য শাখায় ডলার লেনদেন করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে আবেদন চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ ব্যাংক ৬৬৬টি অথরাইজড শাখা চেয়ে আবেদন করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে শাখার অনুমোদন দেবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জন্য ব্যাংকের বিদ্যমান অনুমোদিত এডি শাখা আছে ২০০টি এবং অনুমোদিত বৈধ মানি এক্সচেঞ্জের সংখ্যা ২৩৫টি। এর মধ্যে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরেই বেশিরভাগ শাখা। সারা দেশে চাহিদার তুলনায় এ সংখ্যা খুবই কম। ফলে, নগদ ডলার কেনাবেচার জন্য মানি এক্সচেঞ্জের ওপর নির্ভর করতে হয় সাধারণ গ্রাহক, পর্যটক ও প্রবাসীদের। এজন্যই বৈদেশিক মুদ্রা তথা ডলার কেনাবেচার সুযোগ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছাতে ও সহজে বিনিময় করার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ধারাবাহিকায় অনুমোদিত শাখা বাড়াতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে আবেদন করতে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে গত ১১ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিঠি দেয়। উল্লিখিত সময়ের মধ্যেই ৬৬৬টি শাখার জন্য আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে শাখার অনুমোদন দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে শাখাগুলোতে একটি ডেস্কের মাধ্যমেই এ সেবা চালুর অনুমোদন দেওয়া হবে। তাতে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় করা সহজ হবে। যা ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, দেশে হঠাৎ ডলার সংকট দেখা দিলে তা নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যোগ নেয়। এছাড়া, ডলার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন টিম নিয়মিত কাজ করছে। ডলারের সংকট ও কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকায় এর আগে ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের অপসারণ, ৫টি মানি এক্সচেঞ্জের লাইসেন্স স্থগিত এবং ৪৫টি মানি এক্সচেঞ্জ হাউজকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। কেউ যাতে কৃত্রিমভাবে ডলার সংকট সৃষ্টি না করতে পারে, সেজন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও নজরদারি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সর্বশেষ ডলার বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করা ৬ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জগুলোকে মুনাফার হারও নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংক যে দরে ক্যাশ ডলার বিক্রি করবে, সেই দরকে বেঞ্চ মার্ক ধরে তার চেয়ে ১ টাকা বেশি দরে কিনতে এবং সর্বোচ্চ ১.৫০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করতে পারবে মানি এক্সচেঞ্জগুলো।

বর্তমানে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৯৫ টাকা হলেও চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে খোলা বাজারে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২০ টাকায় উঠে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তবে, রোববার (২১ আগস্ট) খোলাবাজারে ডলারের দাম কমে ১১০ থেকে ১১২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ডলারে দেড় টাকার বেশি লাভ করতে পারবে না মানি এক্সচেঞ্জ

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button