রেমিট্যান্সের বিপরীতে ৬ মাসে ২,১০০ কোটি টাকা ছাড়

0

রেমিট্যান্সের বিপরীতে গত ৬ মাসে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড় করেছে সরকার। এর বেশির ভাগ অংশই ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। রেমিট্যান্স বাড়ার সাথে সাথে নগদ সহায়তার ছাড়ও বেড়ে যাবে।

বৈধ পথে অর্থাৎ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্সকে উৎসাহিত করতে যেকোনো অঙ্কের রেমিট্যান্সের বিপরীতে ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এ কারণেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো অঙ্কের রেমিট্যান্সের বিপরীতে ২ শতাংশ নগদসহায়তা সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণের জন্য অর্থ ছাড় করে থাকে সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৭৬৫ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছিল। চলতি প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়। এ অর্থের মধ্যে বেশির ভাগ অংশই ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ২ শতাংশ নগদ সহায়তা ঘোষণা করে সরকার। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী ৫ হাজার ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ সহায়তা পেতে কোনো কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে হয় না। রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে এলেই সুবিধাভোগীদের ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হয়। আর ৫ হাজার ডলার বা ৫ লাখ টাকার ওপরে কেউ রেমিট্যান্স পাঠালে নগদ সহায়তা পেতে হলে প্রবাসীদের সামগ্রী তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়ে থাকে।

নগদ সহায়তা ঘোষণা করার পরপরই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যেতে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ এই দুই অর্থবছরে এক টানা রেমিট্যান্স প্রবাহের ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়। যেমন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্মক আড়াই শতাংশ। এর পরের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি আরো কমে হয় ঋণাত্মক সাড়ে ১৪ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে এক টানা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। যেমন, ২০১৭-১৮ অথবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয় ১৭ শতাংশ, এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয় ১০ শতাংশ। সর্বশেষ গেলো অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয় সাড়ে ১২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ গত নভেম্বরেও রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের বছরের নভেম্বরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাংকারেরা জানিয়েছেন, দেশের প্রায় সব সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়লেও মাত্র ২ শতাংশ নগদ সহায়তার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। তবে শুধু প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থই পাঠাচ্ছেন, না যারা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা বিদেশে নিয়ে গিয়েছিল তারাও বিভিন্নভাবে রেমিট্যান্স আকারে পাঠাচ্ছেন এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করলেই বেরিয়ে যাবে। তবে আশার কথা হলো, যে ফর্মেটেই হোক রেমিট্যান্স আকারে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে এটাই বড় কথা।

সূত্র জানিয়েছে, সরকার চলতি অর্থবছরের রেমিট্যান্সের বিপরীতে নগদ সহায়তার জন্য বাজেটে বরাদ্দ রেখেছিল ৩ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছয় মাসেই ছাড় করা হয়েছে ২ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। তবে যে হারে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে তার বিপরীতে ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দিতে হলে নগদ সহায়তার জন্য বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে বলে ওই সূত্র মনে করে।

নগদ সহায়তা যেন সহজেই সুবিধাভোগীরা গ্রহণ করতে পারেন এ জন্যই ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিদ্যমান নীতিমালা শিথিল করেছে। আগে কেউ যেন নগদসহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো নয়-ছয়ের আশ্রয় না নিতে পারে সেজন্য তাদের কাগজপত্রাদি অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হতো। কিন্তু নীতিমালা শিথিল করায় এখন আর সে প্রক্রিয়া থাকবে না।

Leave a Reply