লোপাটের মহোৎসবে পিকের পকেটে ১০ হাজার কোটি টাকা

1

কানাডায় পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদার নিজের মা, ভাইসহ পরিবার ও পরিচিতজনদের নামে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান খুলে লোপাট করেছেন ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠান ছিল নামসর্বস্ব এবং ভুয়া।

দুদকে গ্রেফতার পিকে হালদারের মামাতো ভাই শংখ বেপারির মালিকানাধীন মুন এন্টারপ্রাইজ। ILFSL এই কোম্পানিতে ঋণ মঞ্জুর করে ৮৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এই অর্থের ২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা রিলায়েন্স ফাইনান্সের মার্কো ট্রেডার্সের ঋণ পরিশোধ করা হয়। ২০১৬ সালে মার্কো ট্রেডার্স থেকে তিন কোটি টাকা পাচার হয় পিকে হালদারের অ্যাকাউন্টে।

পিকে হালদারের মালিকানাধীন HAL ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ছিলেন স্বপন কুমার মিস্ত্রী। ILFSL-এর পরিচালকও ছিলেন স্বপন কুমার মিস্ত্রী। তার স্ত্রী ছিলেন এমটিবি মেরিনের চেয়ারম্যান। এই কোম্পানির নামে ৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা ২০১৬ সালে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে টাকা ট্রান্সফার করে নয়ছয় করেন পিকে হালদার।

২০১৫-২০১৯ সালের মধ্যে পিকে হালদারের চাচাতো ভাই অমিতাভ অধিকারি ছিলেন পিপলস লিজিংয়ের পরিচালক এবং সহকর্মী উজ্জ্বল কুমার নন্দী ছিলেন চেয়ারম্যান। পিকে হালদারের আনান কেমিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয় অমিতাভকে। চেয়ারম্যান করা হয় উজ্জ্বল কুমার নন্দি ও পরিচালক উজ্জ্বলের স্ত্রী আনিতা কর।

এসব কোম্পানির নামে মা লীলাবতী হালদারের হিসাবে ১৬০ কোটি, ভাই প্রীতিশ কুমার হালদার তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহার নামের কোম্পানিগুলোতে ৫০০ কোটি টাকার বেশি জমা হয়। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে পিকে হালদার নিজেই ২ হাজার কোটি টাকা বের করে নেন। এভাবে লোপাট হয় ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা। দুদকের অনুসন্ধানে এসব কোম্পানির প্রায় প্রতিটিই ভুয়া বা নামসর্বস্ব ও কাগুজে।

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, পিকে হালদারের সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। অনেক কোম্পানির কাগজপত্র জোগার করা হয়েছে, যা বের হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে অনেক কোম্পানি ভুয়া।

এদিকে পিপল লিজিংয়ের মতো Z ক্যাটাগরির কোম্পানির নিয়ন্ত্রণহীন লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ যারা অর্থ ঋণ দিয়েছেন তাদেরও দায় রয়েছে বলে মনে করেন কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞরা।

কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ এ এম মাসুম বলেন, পিপল লিজিং যদি নেন বা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং যদি নেয়, এই ইনস্টিটিউটগুলো কিন্তু আজকে থেকে এ অবস্থায় নয় অনেক আগে থেকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। অডিটের মাধ্যমে কিন্তু ধরা পড়ার কথা। বাংলাদেশ ব্যাংক পুরোটাই দেখভাল করে। এখানে যদি কোনো ধরনের লেনদেন হয় অনিয়ন্ত্রিত হয় এটা কিন্তু প্রথমেই নজরে আসার কথা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানি আইন আরো কঠোর ও নজরদারি বাড়ানো না হলে ভুয়া কোম্পানির নামে এ ধরনের অর্থলুট ঠেকানো অসম্ভব হবে।

1 COMMENT

Leave a Reply