টেকনো ইনফোঃ সবচেয়ে সস্তায় আইফোন ৭ কিনতে হলে সৌদি আরবে যান। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এত সস্তা বাজার আর নেই। কমনওয়েলথ সিকিউরিটিজ (কমসেক) নামে একটি অস্ট্রেলীয় ফার্মের বার্ষিক র‌্যাঙ্কিংয়ে এই তথ্যটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমসেক ৫৭টি দেশে আইফোন ৭ এর প্রাইস ট্যাগে বর্ণিত অঙ্কটিকে ডলারে রূপান্তর করে ক্রেতাদের তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও সাধ্যায়ত্ত হওয়া সম্পর্কে একটা ভাল ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছে। সেই হিসেবে দেখা গেছে যে ৩২ জিবি ক্ষমতার আইফোন ৭ কেনার সবচেয়ে সস্তা জায়গা হলো সৌদি আরব। সেখানে এর দাম ৬৩৯.৭৩ ডলার। এর পরের স্থান জাপান ৬৪৮.০৩ ডলার, যুক্তরাষ্ট্র ৬৪৯ ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৭০৭.৬৩ ডলার, হংকং ৭১৫.২৫ ডলার, হাঙ্গেরী ৭২২.১৬ ডলার।

এর আবার উল্টো চিত্রও আছে অর্থাৎ একই জিনিস সবচেয়ে বেশি দামে কোথায় কোথায় বিক্রি হয় সেটাও দেখিয়েছে কমসেক। তাতে দেখা গেছে যে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ক্রেতারা সর্বশেষ প্রযুক্তির এই পণ্যটি কেনার জন্য সবচেয়ে বেশি দাম দেয়। আইফোন ৭ কেনার সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশগুলোর তালিকা অনুযায়ী আর্জেন্টিনায় এর দাম ১৬২৯.৫৫ ডলার, ব্রাজিলে ১১৩৩.২৮ ডলার, তুরস্কে ১১১৪.৪০ ডলার, সার্বিয়ায় ১০২৮.৬০ ডলার, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১০০৫.১৩ ডলার এবং চেক প্রজাতন্ত্রে ৯৭৭.৩৫ ডলার কর, শুল্ক, শিপিং ব্যয় ও মুদ্রামানের ওঠানামাসহ বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন দেশে দেশে একই পণ্যের দামের ক্ষেত্রে বড় রকমের হেরফের হতে পারে। কমসেক উল্লেখ করেছে যে ২০০৭ সাল থেকে আইপডের দামের তুলনা করে তারা যে বার্ষিক র‌্যাঙ্কিং শুরু করেছে সেটা দি ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিন সঙ্কলিত বিগ ম্যাক ইনডেক্সের সঙ্গে তুলনীয়। ইকোনমিস্ট ১৯৮৬ সাল থেকে সারা বিশ্বে ম্যাগডোনাল্ডস কোম্পানির বার্গার ‘বিগ ম্যাকের’ দামের তুলনা করে আসছে। ইকোনমিস্ট বলেছে যে বিগম্যাক ইনডেক্স উদ্ভাবনের উদ্দেশ্য ছিল মুদ্রাগুলো ‘সঠিক স্তরে’ আছে কিনা হাল্কাভাবে তা দেখিয়ে দেয়া। কিন্তু কমসেক দাবি করেছে যে তাদের উদ্ভাবিত সূচক ইকোনমিস্টের সূচকটির চাইতে অধিকতর সহায়ক কারণ বিগম্যাক বার্গার একক দেশের সীমান্ত দিয়ে সহজে বাণিজ্য করা যায় না। সেদিক দিয়ে এ্যাপলের আইফোনকে একটা যুতসই বিকল্প হিসেবে ধরা যেতে পারে যদি এর দামটা হয় অনেক সস্তা।

কমসেকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রেইগ জেমস বলেন, একটি দেশে আইফোন ও আইপ্যাড যদি বিশেষ রকমের সস্তা হয় তাহলে ট্যুরিস্টরা সে দেশে অবকাশ যাপন করতে গিয়ে এগুলো কিনে ফেলতে পারে এবং অন্যান্য দেশেও লোকে অনলাইনে কিনতে উৎসাহিত হবে। তিনি বলেন, অস্ট্রেলীয় ট্যুরিস্টরা সর্বশেষ সাড়ে ১০ ইঞ্চির আইপ্যাড প্রো যদি নিজের দেশে না কিনে হংকংয়ে কেনে তাহলে তারা ১৯০ অস্ট্রেলীয় ডলার বাঁচাতে পারে। আর একজন আর্জেন্টিনার নাগরিকের জন্য সবচেয়ে বড় সাশ্রয় হবে সে যদি স্বদেশে আইফোন ৭ না কিনে কাজের উদ্দেশে সৌদি আরবে গেলে সেখানে কিনে নেয়। এতে তার ১ হাজার ডলার বেঁচে যাবে।

অবশ্য তার পরও কথা থাকে। সুদূর দুটি দেশের মধ্যে যাওয়া আসার খরচ সহজেই ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সুতরাং সাশ্রয় আর হলো কোথায়? সূত্র ॥ সিএনএনটেক

Facebook Comments