টেকনো ইনফোঃ আসসালামু আলাইকুম৷ সবাই কেমন আছেন৷ আশা করি ভালো৷ আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম অ্যাপলের ম্যাক কম্পিউটার৷ ম্যাক, কারো কারো কাছে শুধুই একটা কম্পিউটার, তবে অনেকের কাছে এটি একটি ‘অনুভূতি’। কেউ ভাবেন—দাম এত চড়া কেন? কারো কাছে এত স্টাইল স্টেটমেন্ট, দাম তো একটু বেশিই হবে।

তবে এসব ছাপিয়ে বিশ্বব্যাপী কম্পিউটারের বিশাল বাজারে অ্যাপলের ম্যাক কম্পিউটার অনন্য! যেখানে অন্যান্য ব্র্যান্ড লাভ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত সেখানে অ্যাপল প্রযুক্তির বাজারে নতুন পরিবর্তন এনে ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ ‘ইউজার এক্সপেরিয়েন্স’ দিতে মগ্ন। ম্যাকিন্টোশের বিষয়ে কোনো আপস করতে রাজি না হওয়ায় একবার স্টিভ জবসকে অ্যাপল ছেড়েও যেতে হয়েছিল।

ম্যাকই লাগবেঃ

কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়—পিসি কেনার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড আপনাকে কতটা প্রভাবিত করে? যে জবাবটি পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে প্রবল তা হচ্ছে, ভালো ব্র্যান্ডের যেকোনো পিসি হলেই চলবে। তবে ম্যাকের বিষয়টি এমন নয়। ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য ম্যাকই লাগবে। অর্থাৎ অ্যাপলের পিসি বা ল্যাপটপ। ম্যাক ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অ্যাপলের একটি পণ্য মানে কেবল একটি পণ্য নয়, একটি অনুভূতি। আপনার ধরে দেখতে ইচ্ছে করবে। তাই একজন ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য অন্য পিসি ব্যবহার করা একটু কষ্টকর বটে।

আর ম্যাকের প্রতি এই অনুভূতির প্রমাণ মেলে যখন একটি অ্যাপল পণ্য ধরে দেখার জন্য অ্যাপল স্টোরগুলোতে লম্বা লাইন পড়ে। আর মানুষের এই ভালোবাসার জন্যই অ্যাপল হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড। কদিন আগেই তাদের আমানত ৮০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বছর শেষে বিশ্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপলের আমানত এক ট্রিলিয়ন ডলার ছোঁবে।

আর ম্যাকের প্রতি এই অনুভূতির প্রমাণ মেলে যখন একটি অ্যাপল পণ্য ধরে দেখার জন্য অ্যাপল স্টোরগুলোতে লম্বা লাইন পড়ে। আর মানুষের এই ভালোবাসার জন্যই অ্যাপল হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড। কদিন আগেই তাদের আমানত ৮০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বছর শেষে বিশ্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপলের আমানত এক ট্রিলিয়ন ডলার ছোঁবে।

কেন আলাদা!

প্রথমেই চিন্তা করুন তো আমরা কেন তুলনা করার সময় ম্যাক বনাম পিসি বলি? সবই তো পারসোনাল কম্পিউটার বা পিসি! এর পেছনে প্রধান কারণ ‘স্বকীয়তা’। ম্যাক পিসির জগতে নিজেকে এতটাই আলাদা করে রেখেছে যে ব্যবহারকারীরা এটিকে পিসি বা ল্যাপটপ বলতে নারাজ। তারা ম্যাক বা ম্যাকবুক বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর এ কারণেই ম্যাক বা ম্যাকবুক ব্যবহারকারীরা নিজেদের সবার চেয়ে আলাদা করার সুযোগ পান।

যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টার কালচার জেনারেশনের ক্ষ্যাপাটে তরুণ স্টিভ জবস স্বপ্ন দেখেন ব্যক্তিগত কম্পিউটারের। স্টিভ ওয়াজনিয়াকের প্রকৌশলবিদ্যা আর স্টিভ জবসের উচ্চাভিলাষ একত্র হয়ে প্রযুক্তি বিশ্বকে চমকে দেয় ১৯৭৬ সালে। সেই থেকে স্টিভ জবসের হাত ধরেই বদলে যায় ব্যক্তিগত কম্পিউটারের জগৎ। প্রতিবছর নতুন নতুন চমক নিয়ে হাজির হয় তারা। একবার অ্যাপলের একজন পণ্য নকশাকার বলেন, ‘আমরা সব সময় চেষ্টা করি আগেরটির তুলনায় ভালো কিছু তৈরি করতে। আর তা যদি না পারি, তাহলে আমরা সেটা বাজারেই ছাড়ি না। এই মানসিকতাটিও অ্যাপলে এসেছে স্টিভ জবস সূত্রে।

প্রতিটি পণ্য তৈরির আগে স্টিভ জবস তাঁর দলকে বলতেন—এমন কিছু নির্মাণ করো, যা তোমার নিজের ব্যবহার করতে ইচ্ছা করবে। আর ‘থিংক ডিফারেন্ট’ বা আলাদা কিছু ভাবার বিষয়টি তো আছেই। আলাদা ভাবনার বিষয়টি অ্যাপলের সাফল্যের অন্যতম সেরা মন্ত্র। বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা কম্পানি ফোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ফোর্ড একবার বলেছিলেন, ‘যদি আমি মানুষকে জিজ্ঞেস করতাম তাদের কী লাগবে, তারা বলত তাদের আরো দ্রুতগতিসম্পন্ন ঘোড়া লাগবে। ’ এই কথার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যদি তিনি প্রচলিত ধারার মধ্যে থাকতেন, তাহলে আমরা হয়তো গাড়িই পেতাম না। অ্যাপলের মধ্যেও সবাই এই মন্ত্রে বিশ্বাসী যে প্রচলিত ধারায় গা ভাসিয়ে দিলে কখনো ‘ভালোবাসা’ পাওয়া যাবে না। তাই প্রতিবার তারা চায় এমন কিছু তৈরি করতে, যা দেখার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এর প্রয়োজন বুঝতে পারে। যেমন মাউস। অ্যাপল যখন পারসোনাল কম্পিউটারে মাউসের ব্যবহার শুরু করে তখন পর্যন্ত কেউ অনুভবই করেনি এমন একটা জিনিস দরকার আছে। বাজারে আসার পর সবার মনে হলো—এটাই তো আমি চেয়েছিলাম।

নকশায় স্বাতন্ত্র্যঃ

ম্যাকের স্বাতন্ত্র্যের আরেক কারণ—নকশা। অ্যাপল কেবল বিক্রয়ের জন্য পণ্য তৈরি করে না। তারা সব সময় এমন কিছু তৈরি করতে চায়, যা দেখেই ব্যবহারকারীরা মুগ্ধ হবে। অনেকটা ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’-র মতো। ব্যবহারকারী ধরে রাখতে অ্যাপলের আছে কয়েক ধাপের ব্যবস্থা। প্রথম অবশ্যই এক দেখাতে ভালো লাগা, এরপর একটু ছুঁয়ে দেখা আর সেটি সম্ভব হয় অ্যাপল স্টোরে। আরেকবার যখন কেউ ছুঁয়ে দেখে অ্যাপল চায়, সে যেন একেবারেই ভালোবেসে ফেলে। আর এই কাজটি করে সহজ ইউজার ইন্টারফেস। ম্যাক থেকে শুরু করে অ্যাপলের সব পণ্যের অন্যতম সেরা গুণ হচ্ছে এগুলো ব্যবহার সহজ। একজন সাধারণ মানুষের যা যা প্রয়োজন সব পাওয়া যাবে হাতের নাগালে। এটিই ব্যবহারকারীকে আটকে ফেলে। দাম নিয়ে একটু সমস্যা হলেও কারো সামর্থ্য থাকলে অ্যাপল স্টোর থেকে খালি হাতে ফেরেন খুব কমই!

পিসি বনাম ম্যাকঃ

বিল গেটস ও স্টিভ জবস সমসাময়িক না হলে ‘পিসি বনাম ম্যাক’ বিতর্কেরই জন্ম হতো না। এই দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের মধ্যে অনেক দিন ধরেই প্রবল প্রতিযোগিতা। স্টিভ জবস যখন ম্যাকিন্টোশ নির্মাণ করছেন তখন বিল গেটস কাজ করছেন উইন্ডোজ নিয়ে। ম্যাকিন্টোশ চলে কেবল অ্যাপলের আইম্যাক ও ম্যাকবুকে। আর উইন্ডোজ চলে বাকি সব কম্পিউটার ও ল্যাপটপে। যুগের পর যুগ এই দুটি অপারেটিং সিস্টেমকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে কম্পিউটার জগৎ।

অনুভূতিঃ

একটি কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করলে প্রথম যে বিষয়টির সঙ্গে আপনার পরিচয় হবে সেটি হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেম। এটিই ঠিক করে দেয় কম্পিউটারটির ব্যবহার সহজ না জটিল হবে। টাচ বেজড অপারেটিং সিস্টেম নির্মাণের জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করা পিসি উইন্ডোজ এইটে ভোক্তাদের বিরক্তি ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি বলে মনে করেন বিশ্বের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। যদিও উইন্ডোজ টেনে এসে তার কিছুটা দূর করতে পেরেছ মাইক্রোসফট। অন্যদিকে ম্যাক ওএস টেন পুরনো অনুভূতি ধরে রেখেছে। ম্যাক এখনো টাচ বেজড অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আসেনি, তবে অ্যাপলের অত্যাধুনিক মাউস এবং ম্যাকবুকের টাচপ্যাড সেটির অভাব ভালোভাবেই দূর করতে পারছে।

অনন্য সমন্বয়ঃ

অ্যাপলের সব ডিভাইসে একই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম হওয়ায় কাজ অনেক সহজ হয়ে পড়ে। যেমন—আপনি আইম্যাকে যে লেখাটি শুরু করলেন তা চাইলে চলার পথে আইফোন বা আইপ্যাডেও শেষ করতে পারেন। অন্যান্য পিসি, মোবাইল, ট্যাবলেটের অপারেটিং সিস্টেম আলাদা হওয়ার কারণে এটি করা অতটা সহজ হয় না।

নকল এড়াতেঃ

বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের পিসি আছে। ফলে এ ধরনের পণ্যের অনেক নকল ঢুকে পড়ে বাজারে। ম্যাক কম্পিউটারে এ সমস্যা নেই। বিষয়টি এমন—কম্পিউটার লাগবে? অ্যাপল স্টোরে গিয়ে কিনে নিয়ে আসুন। আপনাকে আর কিছু ভাবতে হবে না।

নিরাপত্তাঃ

সাইবার নিরাপত্তা এখন বড় ইস্যু। সবাই চাচ্ছে তার ডিভাইসটি নিরাপদে থাকুক। বছরের পর বছর ধরে ম্যাকে সাইবার আক্রমণের সংখ্যা উইন্ডোজ পিসিতে সাইবার আক্রমণের পরিমাণের চেয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কম। তাই ম্যাক কম্পিউটার ব্যবহার তুলনামূলক অনেক নিরাপদ।

সঙ্গেই সব সফটওয়্যারঃ

উইন্ডোজ পিসির ক্ষেত্রে যেকোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায়। কিছু ফ্রি কিছু কিনে ব্যবহার করা যায়। তবে উইন্ডোজের সঙ্গেই বলার মতো অসাধারণ কোনো সফটওয়্যার আসে না। এদিকে একটি ম্যাক কম্পিউটারের বাক্স খুললে অন করলেই আপনি ইনস্টল করা পাবেন ফটোজ, আইমুভি, গ্যারেজব্যান্ড, পেজেস, নাম্বারস,  কিনোট, ফেসটাইম, আইটিউনস, ম্যাপস। যেগুলো দিয়ে আপনি সঙ্গে সঙ্গে ছবি এডিটিং, গান তৈরি, ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন। ম্যাক অ্যাপ স্টোরে আছে আরো অনেক ধরনের অ্যাপ, যা আপনার অন্যান্য প্রয়োজন পূরণ করবে।

মনিটরঃ

বর্তমান রেটিনা ম্যাকবুক ও আইম্যাকে আছে রিফ্লেক্টিভ কোটিং। এসব ডিসপ্লের ডট পার ইঞ্চি বা ডিপিআই অনেক উচ্চ। কিছু দামি উইন্ডোজ ল্যাপটপেও অবশ্য এই ডিপিআই পাওয়া যায়। তবে এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক বিচারে ম্যাক যোজন যোজন এগিয়ে।

নির্মাণশৈলীঃ

পণ্য নির্মাণের ক্ষেত্রে একেবারে খুঁটিনাটি বিষয়ে অ্যাপল অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে থাকে। যেকোনো ছোট পরিবর্তনের জন্য এটি বছরের পর বছর ধরে গবেষণা করে থাকে। অ্যাপল টু বাজারে আনার সময় কেবল একটি অডিও ক্লিপে সমস্যা হওয়ার কারণে স্টিভ জবসের রোষানলে পড়তে হয়েছিল পুরো টিমকে। সুত্রঃ ইন্টারনেট

আশা করি ভালো লেগেছে৷

Leave a Reply