টেকনো ইনফোঃ বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইন্টারনেটের আইপি লগ সংরক্ষণে আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে দক্ষ জনগোষ্ঠী ও জনসচেতনতা তৈরি এবং সামাজিক উদ্যোগে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার দাবিও জানিয়েছে তারা।

আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব আহ্বান জানায় স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি। প্রযুক্তিবিদদের সংগঠন ইনফরমেশন সিস্টেমস অডিট অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের (আইসাকা) ঢাকা চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় তারা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ২০১১ থেকে নরওয়ে এবং ২০১২ থেকে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ অক্টোবর মাসকে ‘সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস’ হিসেবে পালন করে আসছে। সাইবার দস্যুতা থেকে নিরাপদে থাকতে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি নেওয়া হয় এ মাসে। তারই অংশ হিসেবে অক্টোবর মাসকে সামনে রেখে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ হাসান বলেন, কম্পিউটার কিংবা মুঠোফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সংযুক্ত হতে হলে একটি পরিচিতি নম্বর বা ঠিকানা লাগে, যা আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) অ্যাড্রেস নামে পরিচিত। আর কোন আইপি অ্যাড্রেসের বিপরীতে কোন ব্যক্তি কোন সময় ইন্টারনেট-সেবা নিচ্ছে, তা ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে (আইএসপি) রেকর্ডভুক্ত করে রাখার উপায় হলো ‘আইপি লগ’।

আব্দুল্লাহ হাসান আরও বলেন, দেশে ঠিকমতো আইপি লগ সংরক্ষণ না করায় অপরাধীরা এর সুবিধা নিচ্ছে। গত এপ্রিলে দেশের সব আইএসপিকে ‘আইপি লগ’ কমপক্ষে এক বছর সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কিন্তু দেশে এ সংক্রান্ত কোনো আইন নেই। ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে একজন ব্যক্তি কখন কোন ওয়েবসাইটে ঢুকবেন তা তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। তাই এই তথ্যগুলো আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কখন কীভাবে পেতে পারে তা আইনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে আইসাকা ঢাকা চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক খন্দকার বলেন, সাইবার নিরাপত্তায় দেশের বিপুল জনশক্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজে লাগানো যেতে পারে। এতে তারা সাইবার নিরাপত্তার বিভিন্ন টুলস তৈরি করে সেগুলো আন্তর্জাতিকভাবে বাজারজাত করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সাইবার আক্রমণের ঘটনাও ঘটছে। অনেক দেশই ভবিষ্যত সাইবার যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। এ কারণে তারা সাইবার নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ভুলের কারণে সাইবার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় শতকরা ৮০ ভাগ। এ জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রমে যত অগ্রগতি হবে তত বেশি সাইবার নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ও প্রধান সমন্বয়ক কাজী মুস্তাফিজ। অন্যদের মধ্যে সংগঠনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন, সদস্য জাহিদুল ইসলাম ও তানজিয়া খানম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সুুুুত্রঃ Prothom alo

Leave a Reply