টেকনো ইনফোঃ আসসালামু আলাইকুম। বন্ধুরা কেমন আছেন। আশা করি আল্লাহ্‌ রাহমতে ভাল আছেন। আজ আমার আলোচনার বিষয় এন্ড্রয়েডের ফোনের ব্যাটারী লাইফ নিয়ে। এন্ড্রয়েডের ফোনের ব্যাটারী লাইফ নিয়ে চিন্তা করেননা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। কিন্তু কিছু বিষয় জানা থাকলে অতি সহজেই ফোনের ব্যাটারী লাইফ বাড়িয়ে নেয়া যায় এবং নিশ্চিন্তে আপনি আপনার এন্ড্রয়েড ফোনটি ব্যবহার করতে পারেন। তো আসুন জেনে নেই কিভাবে সহজ উপায়ে আপনার মোবাইলের ব্যাটারী লাইফ বাড়াতে পারবেন।

বাড়িয়ে নিন অ্যান্ড্রয়েডের ব্যাটারী লাইফ!

১. এক্সট্রা পাওয়ার সেভিং মোড এ্যাকটিভ করুনঃ

আধুনিক স্মার্টফোন কোম্পানি, যেমন- Samsung ও HTCএ যথাক্রমে আলট্রা পাওয়ার সেভিং মোড (Ultra Power Saving mode) এবং এক্সট্রিম পাওয়ার সেভিং মোড (Extreme Power Saving mode) রয়েছে। এই সুবিধা ডিভাইসের ফোন কল করা ও রিসিভ করা, টেক্সট ম্যাসেজ পাঠানো, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা এবং ফেসবুকে অ্যাক্সেস সীমিত করে দেয়। তা স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয়, যা ব্যাটারী ক্ষয়ের আরেকটি কারণ। আপনার ফোনে যদি অতিরিক্ত পাওয়ার সেভিং মোড থাকে তবে আপনার তা সেট আপ করা উচিৎ এবং এতে আপনার ব্যাটারীর চার্জ কয়েক ঘণ্টা বেশি থাকবে।

২. স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিনঃ

সব এন্ড্রয়েড ডিভাইসেই স্ক্রিন ব্রাইটনেস এডজাস্ট করার অপশন থাকে, কিন্তু আমরা অনেকেই “Auto” সেটিংসে দিয়ে রাখি যেটা আশেপাশের আলোর পরিমাণ দেখে নিজ নিজে ব্রাইটনেস কমায় বাড়ায়। জিনিসটা কাজের হলেও এটা ব্যাটারী লাইফের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে।

বিভিন্ন ফোনের অটো ব্রাইটনেস ফাংশন বিভিন্ন রকম। তবে বেশিরভাগ সময়ে প্রয়োজনের চেয়ে স্ক্রিন বেশি আলো নিয়ে বসে থাকে। যেহেতু স্ক্রিনই সবচেয়ে বেশি ব্যাটারী খায়, তাই ব্যাটারী লাইফ বাড়াতে চাইলে স্ক্রিন ব্রাইটনেস ম্যানুয়ালি এডজাস্ট করাই ভালো।

৩. স্ক্রিন টাইমআউট কমিয়ে দিনঃ

স্ক্রিনই সবচেয়ে বেশি ব্যাটারী পাওয়ার খাওয়ার ওস্তাদ। Battery Stats চেক করলে দেখতে পাবেন ১ নাম্বার পাওয়ার খাদক আপনার ফোনের ডিসপ্লে। তাই আশা করি এটা বুঝা যাচ্ছে যত বেশি স্ক্রিন টাইমআউট দিবেন ততবেশি চার্জ চলে যাবে। তাই ১৫-৩০ সেকেন্ড এর ভিতর স্ক্রিন টাইমআউট নামিয়ে আনুন।

৪. AMOLED ডিসপ্লের সাথে কালো ওয়ালপেপার ব্যবহার করুনঃ

বর্তমানে মূলত দুই ধরনের স্ক্রিন আছে, LCD আর AMOLED। যদি আপনার ফোনের ডিসপ্লে LCD হয় তাহলে ওয়ালপেপার নিয়ে এত চিন্তার কিছু নেই, চার্জ খাবেই। আর আপনি যদি AMOLED ডিসপ্লের ফোন ব্যবহার করেন তাহলে খেয়াল করুন।

একটা ডিসপ্লেতে যতগুলো পিক্সেল আছে, সেগুলো একটা একটা করে আলোকিত করার মাধ্যমে AMOLED ডিসপ্লে কাজ করে। এর মানে হল, কালো বা ডার্ক কালারের পিক্সেলগুলো তেমন বেশি চার্জ খায় না। তাইলে আপনি কালো রঙের ওয়ালপেপার ব্যবহার করে চার্জ বাঁচাতে পারবেন।

৫. কাজ শেষে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস ক্লোজ করুনঃ

বেশিরভাগ সময় আমরা কাজের শেষে অ্যাপস ক্লোজ করি না বা ঐভাবে মিনিমাইজ করে রাখি। কিন্তু এটি আপনার চার্জকে ধরে রাখতে ব্যাঘাত ঘটায়। তাছাড়া বেশ কিছু অ্যাপস আছে যেগুলো অনেক বেশি নষ্ট করে সেগুলো অবশ্যই বন্ধ করবেন। তাছাড়া এন্ড্রোয়েডের কিছু ডিফল্ট সেটিং আছে যেখান থেকে ভারি অ্যাপগুলো অর্থাৎ যে অ্যাপস বেশি চার্জ নষ্ট করছে সেগুলো দেখতে পারবেন। সেজন্য Settings > Battery থেকে দেখে সেগুলো কাজ শেষে ক্লোজ করুন।

৬. ভাইব্রেশন অফ রাখুন ও অপ্রয়োজনীয় সাউন্ড বন্ধ করুনঃ

প্রয়োজন ছাড়া আপনার ফোনের ভাইব্রেশন বন্ধ রাখুন। আর বিভিন্ন অ্যাপস বা সেটিং থেকে অপ্রয়োজনীয় সাউন্ড অফ করে রাখুন। Settings > Sound & notification > Other sounds এখান থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস বন্ধ করুন।

৭. প্রয়োজন ছাড়া একাউন্টের Sync বন্ধ করুনঃ

এটাকে অনেকটা চার্জ চোরও বলা যায় কারণ কখন কোনদিকে নতুন সার্ভিস রান করে ব্যাটারীর চার্জ খেয়ে ফেলবে আপনি নিজেও বুঝবেন না। ছবির মত সব Sync অন করা থাকলে অযথা চার্জ খাবে। তাই যেসব সার্ভিস ইউজ করেন না, সেগুলো অফ করে দিন। Sync অফ করার জন্য Settings > Accounts > Google যান।

৮. অ্যাপস সব সময় আপডেটেড রাখুনঃ

আমরা যেসব অ্যাপ নিয়মিত ব্যবহার করি সেগুলো নিয়মিত আপডেট করা জরুরি।
ডেভেলপারেরা নিয়মিত বাগ ও অপ্টিমাজেশনের আপডেট দেয়। একটা অ্যাপস যদি অপ্টিমাইজেশনের ধার না ধেরে বাজে কোডিং করে বানানো হয় তাহলে সেটা আপনার ব্যাটারী লাইফের উপর প্রচুর প্রভাব ফেলবে। তাই উচিত কাজ হল অ্যাপস নিয়মিত আপডেট করে নেয়া।

৯. ব্যাটারী সেভারের মত অ্যাপস ব্যবহার করুনঃ

এন্ড্রয়েডের সেরা সুবিধা হল এর সব কিছুর জন্যই অ্যাপস আছে এবং ব্যাটারী সেইভিং এর জন্য তো অবশ্যই। কিন্তু আমরা অনেকে এমন কতগুলো ব্যাটারী সেভার ব্যবহার করি যেগুলোর কাজ হচ্ছে শুধু অ্যাপস কিল করা। কিন্তু এন্ড্রয়েড তো বানানো হয়েছে মাল্টিটাস্কিং এর জন্য। কিল করে কি লাভটা হবে? মাঝখানে আরো ব্যাটারী খরচ।

তাই আমরা বলি Greenify ব্যবহার করেন। এটা খুবই কাজের অ্যাপ, এটা দিয়ে যেসব অ্যাপস ইউজ করেন না কেন সেগুলোকে ‘ফ্রিজ’ করে রাখতে পারবেন। এতে ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন সার্ভিস চালাতে পারবে না। ফলে র‍্যামও খালি থাকবে, চার্জও কম যাবে।

১০. ব্যবহার করুন পোর্টেবল চার্জারঃ

সময় ও স্রোত আর মোবাইলের চার্জ কারো জন্য অপেক্ষা করে না। আপনি সারাদিন বাইরে থাকলে মোবাইলের চার্জ চলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই বিকল্প রাস্তা হিসেবে একটা পাওয়ার ব্যাঙ্ক কিনতে পারেন। পাওয়ার ব্যাঙ্ক ১,০০০ mA থেকে ২০,০০০mA পর্যন্তও পাওয়া যায়। তাই আপনার ফোনের জন্য উপযুক্ত কোন পাওয়ার ব্যাঙ্ক কিনে নিন।

১১. চার্জার ঠিক মত চার্জ দিচ্ছে কিনা দেখুনঃ

অনেকেরই নতুন মোবাইল কেনার পর চার্জার হারিয়ে বা নষ্ট করে হয়ে গেলে অন্য চার্জার দিয়ে চার্জ দিতে গেলে কম চার্জ হওয়ার সমস্যা হয়। এখন আপনার চার্জার ঠিক মত চার্জ দিচ্ছে কিনা সেটা চেক করারও অ্যাপস আছে, সেটার নাম Ampere. তাই এবার থেকে নতুন চার্জার কিনার সময় সেটা আপনার ফোনের জন্য কম্পাটিবল কিনা সেটা চেক করে নিবেন।

১৩. যথাসম্ভব Widgets কমিয়ে রাখুনঃ

Widgets আপনার কাজকে সহজে করার কিছু শর্টকার্ট অ্যাপস। কিন্তু অতিরিক্ত widgets আপনার ফোনকে স্লো সহ চার্জ কমায়ে দিতে পারে। সেহেতু যত-সম্ভব widgets কম রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন ছাড়া না ব্যবহার করায় ভালো, আমার মনে হয়।

১৪. এ্যানিমেশন অফ রাখুনঃ

আপনি কি জানেন আপনার ফোনের কিছু ফ্ল্যাশি এ্যানিমেশন আপনার ফোনের ব্যাটারী লাইফ কমিয়ে দিতে পারি। আগে এগুলো অফ করা না গেলেও এখন আপনি সেগুলো অফ করতে পারবেন। Settings > About phone অপশন থেকে আপনি এটি অফ করতে পারবেন। “Developer options” “Window animation scale,” “Transition animation scale” এবং “Animation duration scale.” সবগুলা অপশন অফ করতে হবে। আপনাকে চেঞ্জ কনফার্ম করতে ফোন রিবুট প্রয়োজন পড়তে পারে।

১৫. ফেসবুক, টুইটার এবং ই-মেইল অ্যাক্টিভিটি হ্রাস করুনঃ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং এর পাশাপাশি ম্যাসেজিং অ্যাপসের অতিরিক্ত ব্যবহার আপনাকে সামাজিকভাবে সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে সাহায্য করে, কিন্তু তা আপনার ব্যাটারীর চার্জ নিঃশেষ করে দেয়। ডিভাইসের সাথে চার্জার সংযুক্ত অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার ফোনটি যখন ব্যাটারীতে চলছে তখন ব্যাটারি লাইফ দীর্ঘ করার জন্য এসব অ্যাপস বন্ধ করুন।

১৬. অপ্রয়োজনীয় রেডিওসমূহ বন্ধ করে দিনঃ

হার্ডওয়্যার রেডিও, যেমন এলটিই, জিপিএস, এনএফসি, ব্লু-টুথ এবং ওয়াই-ফাই আজকাল সব ফোনের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। রেডিও এর প্রয়োজন না হলে তা বন্ধ করে রাখা উচিৎ।

১৭. খুঁজে বের করুন ব্যাটারী খাদক অ্যাপসঃ

আপনি ফোনের স্ক্রিন অফ করে রাখলেও অনেক অ্যাপস চাইলে সিস্টেম রিসোর্স ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু অধিকবার এন্ড্রয়েডকে এরকম ঘুম থেকে তুললে wakelock হয় ফলে ওই অ্যাপের জন্য চার্জ যেতেই থাকে। এসব Wakelock Trigger কারী অ্যাপদের ধরার জন্যও একটি এপ্লিকেশন আছে যার নাম WakeLock. এটা ব্যবহার করে কোন অ্যাপ কত সময় ধরে CPU অন রাখলো চেক করতে পারবেন। বেশি তেড়িবেড়ি করলে সোজা আনইন্সটল মেরে দিবেন। তবে এই অ্যাপের জন্য রুট আবশ্যক।

১৮. সিগন্যালের শক্তি দেখুনঃ

আপনার ফোনটি যদি এমন কোনো এলাকায় থাকে যেখানে নেটওয়ার্কের কাভারেজ দুর্বল, তবে আরও শক্তিশালী সিগন্যালের খোঁজে আপানার ব্যাটারী আরও বেশি ক্ষয় হবে। এটা ব্যাটারী লাইফের উপর প্রভাব ফেলে। যদিও আপনার এ ব্যাপারে কিছুই করার নেই, তবুও আপনি এয়ারপ্লেন মোড (Airplane mode) অন করতে পারেন যদি আপনি মনে করেন আপনার ডাটা বা ফোন নেটওয়ার্কের প্রয়োজন নেই।

১৯. ব্যাটারী সাশ্রয়ী অ্যাপস ব্যবহার করুনঃ

ব্যাটারী লাইফ বাড়ানোর জন্য প্লে স্টোরে তৃতীয় পক্ষের অনেক অ্যাপস পাওয়া যায়। আপনি অাপনার পছন্দ মতো যেকোন একটি অ্যাপস নামিয়ে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন৷ আশা করা যায় ভালো ফল পাবেন৷

(সংগৃহীত ও পরিমার্জিত)

আশা করি পোস্টটি আপনাদের উপকারে আসবে৷

Leave a Reply