জেনে নিন ইউএসবি ড্রাইভের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ

0

টেকনো ইনফোঃ ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভ ফ্লাশ ডাটা স্টোরেজ ডিভাইস এবং ইউএসবি (ইউনিভারসাল সিরিয়াল বাস) ইন্টারফেস এর সমন্বয়ে গঠিত। ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভ সাধারণত সিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্নকরণযোগ্য এবং এতে পুনরায় ডাটা লিখা যায়। এটি বাহ্যিকভাবে ফ্লপি ডিস্ক বা অপটিক্যাল ডিস্ক থেকে অনেক ছোট।

অধিকাংশ ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভের ওজন ৩০ গ্রাম এর চেয়ে কম। সর্বপ্রথম ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভ বাজারে আসে ২০০০ সালে। আকার ও খরচ ঠিক রেখে এখন পর্যন্ত ২ টেরাবাইট ধারণক্ষমতা পর্যন্ত ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভ তৈরী করা সম্ভব হয়েছে ।

ফ্লপি ডিস্ক যে কারণে ব্যবহার করা হত ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভও একই কারণে ব্যবহার করা হয়। ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভ আকারে ছোট, অনেক দ্রুত, হাজার গুণ বেশি ধারণক্ষমতা এবং চলমান পার্টস না থাকায় অনেক বেশি টেকসই এবং নির্ভরযোগ্য।

ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, পেন ড্রাইভ বা থাম্ব ড্রাইভের সবচেয়ে সাধারণ আর গুরুত্বপূর্ণ কাজটা আমরা সবাই জানি। ডেটা ট্রান্সফার করা।

কিন্তু জানেন কি? এটা এছাড়াও আপনি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ইউএসবি ড্রাইভ ব্যবহার করতে পারেন। আসুন জেনে নেই ডেটা ট্রান্সফার করা ছাড়া আর কি কি কাজে ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ব্যবহার করা য়ায৷

১৷ রিকভারি কিটঃ

প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত হচ্ছে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার গুলো যখন তখন যে কোনও কম্পিউটার, ল্যাপিতে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার অ্যাটাকের ঘটনা ঘটতে পারে। সেই সব অ্যাটাকের পালটা জবাব দেবাব জন্যে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার মেশিনে তো বটেই, রাখুন আপনার ইউএসবি ড্রাইভেও। সমস্যা হলে কাজে দেবে৷

২৷ কম্পিউটার লক এবং আনলকঃ

পেন ড্রাইভ যখন প্লাগ ইন করছেন বা প্লাগ আউট করছেন, তার ওপর ভিত্তি করে আপনার কম্পউটার আনলক বা লক করতে পারেন। এই ড্রাইভ ছাড়া অন্য কেউ যদি আপনার কম্পিউটারে অ্যাকসেস করার চেষ্টা করে, একদম মেসেজ দিয়ে তাকে আপনার পিসি জানান দেবে, আপনি এবং আপনার ড্রাইভটি ছাড়া আনলক করা অসম্ভব।

৩৷ ওভাররাইট না করেই বুট করুন লিনাক্সঃ

কম্পিউটার নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন, অথচ একবার হলেও কেউ লিনাক্সের নাম শোনেননি, তেমন কেউ নেই। আপনার ওএস-এ ওভাররাইট না করেই পেন ড্রাইভের মাধ্যমে লিনাক্স বুট করতে পারেন।

৪৷ নিজের তথ্য সুরক্ষিত করুনঃ

আপনি কোনও গোপন বা ব্যক্তিগত নথিপত্র স্টোর করার কথা ভাবেন, তাহলে আপনি সেটিকে এনক্রিপ্ট করে রাখতে পারেন। ফলে আর কারওর হাতে আসবে না সেইসব। উইন্ডোজ অন বোর্ড টুলস বা ট্রুক্রিপ্টের মতো কিছু ফ্রি অ্যাপ ইনস্টল করলেই এই ফ্ল্যাশ ড্রাইভ হ্যাকের কাজটি করে ফেলা যাবে।

৫৷ র‍্যাম হিসেবে ব্যবহারঃ

ধরা যাক কোনও কারণে আপনার পার্সোনাল কম্পিউটারের গতি বেশ ধীরে। আপনার কিছু ডেটার মাধ্যমে তার গতি আপনি বাড়াতেই পারেন। তা দিয়ে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে আরও ভাল ভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, বাড়বে পারফরম্যান্সও।

৬৷ পোর্টেবল অ্যাপ রান করুনঃ

গেম থেকে সফটওয়্যার। বিভিন্ন পোর্টেবল অ্যাপ পকেটে নিয়ে ঘুরতে পারেন ইউএসবি ড্রাইভের মাধ্যমে। ফায়ারফক্স, ক্রোম, ওপেন অফিস কিংবা বিভিন্ন গেমের মতো সফটওয়্যার আপনি যে কোনও কম্পিউটারেই ব্যবহার করতে পারবেন।

৭৷ ডিস্ক পার্টিশনঃ

আপনার ফ্ল্যাশ ড্রাইভটিতে ইনস্টল করুন পার্টেট ম্যাজিক। আপনার কম্পউটারের হার্ড ড্রাইভ, তা দিয়ে অনায়াসে রি-পার্টিশন করা যাবে। যদিও এই পার্টিশনের বিষয়টি বেশ ঝুঁকির কাজ। কিন্তু পেন ড্রাইভ থেকে বুট করা হলে কাজটি আরেকটু সহজে হয় বইকি।

৮৷ অ্যান্টি ভাইরাস রান করুনঃ

ধরা যাক আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস অ্যাটাক করে ফেলেছে। কিছুতেই কম্পিউটার চালাতে পারছেন না। সেই সময় কখনও কখনও পেন ড্রাইভে থাকা অ্যান্টি ভাইরাস রান করালে কাজের কাজ হতে পারে। অনেক অ্যান্টি ভাইরাসেই ইউএসবি আর সিডি রিকভারি টুলস থাকে। তাই ইউএসবি বা সিডি রিকভারি ইমেজ ডাউনলোড করুন, আর তা দিয়ে বুটেবল ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভের মাধ্যমে তা নিজের কম্পিউটারে ব্যবহার করুন।

৯৷ ফাইল সিঙ্ক করুনঃ

যদি আপনার কম্পিউটারে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল থেকে থাকে, তাহলে সিঙ্কটয় ২.১ কিংবা সিঙ্কব্যাকএসই-র মতো টুলসের মাধ্যমে সেই সব ফাইল অটোমেটিক সিঙ্ক করতে পারেন। কপি করতে পারেন ইউএসবি-তে।

১০৷ স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের ইন্টারনাল স্টোরেজঃ

যদি আপনার কাছে অনেক পেন ড্রাইভ থেকে থাকে, তাহলে ওটিজি কেবলের মাধ্যমে সেগুলি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। কিছু কিছু ডিভাইসের ইউ এস বি ওটিজি ড্রাইভার্স নেই, সেক্ষেত্রে ইন্টারনাল ড্রাইভ মাউন্ট করতে কিছু অ্যাপসের সাহায্য নিতে পারেন৷

এই হল পেনড্রাইভের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার। আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভাল লেগেছে। আমাদের সাথে থাকুন প্রযুক্তির নতুন নতুন খবর জানুন।  সবাইকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply