টেকনো ইনফোঃ আসসালামু আলাইকুম ৷ আশা করি সবাই ভালো আছেন ৷ আজ দুইটি জনপ্রিয় browser নিয়ে কিছু আলোচনা করবো৷

প্রযুক্তির বিশ্বে ওয়েব ব্রাউজারের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এখন গুগল ক্রোম। একটা সময় ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার বা মজিলা ফায়ারফক্স শীর্ষ ওয়েব ব্রাউজার থাকলেও এখন গুগল ক্রোমের ধারে-কাছেও নেই কোনোটি।

কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নে এগিয়ে কোনটি? এ বিষয়ে একটি সমীক্ষা দাবি করছে, গুগল ক্রোমের চেয়েও ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ মাইক্রোসফটের নতুন ওয়েব ব্রাউজার ‘এজ’।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম এনএসএস ল্যাবের এক সমীক্ষা শেষে দাবি করা হয়েছে, স্ক্যাম বা ভুয়া-প্রতারক সাইটগুলো থেকে সুরক্ষা দিতে ‘এজ’ সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

স্ক্যাম সাইটগুলোর উদ্দেশ্য থাকে মানুষকে ভুল তথ্যের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করে বা লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য; যেমন- পাসওয়ার্ড, ঠিকানা, মেসেজ, ক্রেডিট কার্ড নাম্বার ইত্যাদি জেনে নেওয়া। এ পদ্ধতিটাকে ফিশিংও বলা হয়ে থাকে। আধুনিক ওয়েব ব্রাউজারগুলো এসব স্ক্যাম সাইটের সন্দেহজনক ইউআরএল শনাক্ত করার ক্ষমতা রাখে। তবে প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে এসব স্ক্যাম সাইটগুলোর কর্মপন্থাও উন্নত হচ্ছে এবং আরও অভিনব উপায়ে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।

এনএসএস ল্যাব এমন নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনটি জনপ্রিয় ব্রাউজার ক্রোম, ফায়ারফক্স ও এজের ওপর ৩৬ হাজার ১শ ২০টি সন্দেহজনক ইউআরএলের পরীক্ষা চালায়। পরীক্ষায় ক্ষতিকর ইউআরএল ব্লক করা, নিরাপত্তার ধারাবাহিকতা ও নতুন সৃষ্ট হুমকি থেকে নিরাপত্তা প্রদানে কোন ব্রাউজার কতোটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হয়।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাইক্রোসফট এজ ৯২.৩ শতাংশ ফিশিং ইউআরএল ব্লক করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে গুগল ক্রোমের সফলতার হার ৭৪.৫ শতাংশ এবং ফারায়ফক্সের সফলতা ৬১.১ শতাংশ।

ক্ষতিকর সাইটগুলো থেকে সুরক্ষার জন্য আধুনিক ব্রাউজারগুলো ইউআরএলগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে। এরপর কোন শ্রেণির ইউআরএল কতোটা নিরাপদ তা বিবেচনা করে সে সংক্রান্ত তথ্য ক্লাউডে সংরক্ষিত রাখে।  ব্যবহারকারী কোনো ক্ষতিকর ইউআরএলে প্রবেশ করতে চাইলে ব্রাউজার এর শ্রেণি অনুযায়ী ক্লাউডের পারমিশন চায়। যদি ব্যবহারকারীর ইউআরএল ক্ষতিকর শ্রেণির হয়ে থাকে, তবে ব্রাউজার সতর্কবার্তা দেখাবে। আর নিরাপদ ইউআরএলের ক্ষেত্রে ব্রাউজার সেখানে প্রবেশ করবে।

নতুন ধরনের ম্যালওয়ার ‘জিরো আওয়ার’ ফিশিং স্ক্যামের ক্ষেত্রেও এজ তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে। এজ ৮১.৮ শতাংশ জিরো আওয়ার ফিশিং স্ক্যাম ব্লক করতে সক্ষম। এক্ষেত্রে ক্রোম ৫৮.৬ শতাংশ ও ফায়ারফক্স ৫০.৭ শতাংশ সফল।

গুগল ক্রোম বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে সহজ ব্যবহার, দ্রুত গতি ও ব্যাপক কার্যপরিধির কারণে। অপরদিকে মাইক্রোসফট এজ উইন্ডোজ-১০ এর একটি ডিফল্ট ব্রাউজার। সম্প্রতি এন্ড্রয়েড ও আইওএস অপারেটিং সিস্টেম চালিত ডিভাইসের জন্য এর অ্যাপ বাজারে এসেছে। বাংলাদেশ সময়৷

Facebook Comments