টেকনো ইনফোঃ প্রায়ই কম্পিউটার থেকে ভুল করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিলিট হয়ে যাওয়ায় আমাদের বিপদে পড়তে হয়। আবার অনেক সময় কোনো ফাইল অপ্রয়োজনীয় ভেবে ডিলিট করার কিছুদিন পর হঠাৎ করে সেটা প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। অথবা ফাইলটি কোথায় সেভ করেছিলেন, তা আর মনে পড়ে না।

এসব বিপদের হাত থেকে মুক্তি পেতে ডিলিট হওয়া ফাইল উদ্ধারের ও ফাইলের নিরাপত্তা বাড়ানোর কিছু জনপ্রিয় পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ফাইল হিস্ট্রি ব্যবহার করে হারানো ফাইল উদ্ধার

আপনি যদি উইন্ডোজ এইট বা এর পরবর্তী সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকেন, তবে উইন্ডোজের ফাইল হিস্ট্রি ব্যাকআপ অপশন চালু করে রাখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার যাবতীয় ফাইল নিরাপদে থাকবে।

এ অপশন চালু রাখা অবস্থায় হারানো ফাইল উদ্ধার করতে আপনার উইন্ডোজ এইটের সেটিংস থেকে কনট্রোল প্যানেলে প্রবেশ করুন। সেখানে ‘সিস্টেম অ্যান্ড সিকিউরিটি’ অপশনের নিচে ‘সেভ ব্যাকআপ কপিস অব ইওর ফাইল উইথ ফাইল হিস্ট্রি’ অপশন খুঁজে পাবেন।

এই অপশনে প্রবেশের পর হারানো ফাইল উদ্ধারের জন্য বাম পাশে ‘রিস্টোর পার্সোনাল ফাইল’ অপশনে ক্লিক করুন।

এখানে দেখতে পাবেন ফাইল হিস্ট্রির আর্কাইভের বিভিন্ন ফোল্ডারে সংরক্ষিত আপনার ফাইলগুলো। এবার যে ফাইলটি উদ্ধার করতে চান তা সিলেক্ট করুন, এরপর নিচে সবুজ রংয়ের রিস্টোর বাটনে ক্লিক করলেই হার্ড ডিস্কের আগের অবস্থানে পৌঁছে যাবে ফাইলটি।

ফাইল রিকভারি সফটওয়্যার 

যদি আপনার ফাইল রিকভারি সিস্টেম চালু না থাকে, তবে ফাইল রিকভারি সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিলিট করা ফাইল উদ্ধার করতে পারবেন।

ইন্টারনেটে বেশ কিছু ফ্রি সফটওয়্যারের পাশাপাশি অনেক কমার্শিয়াল সফটওয়্যারও রয়েছে। এগুলোর ব্যবহার খুবই সহজ। এগুলোর মধ্যে ইজি আনডিলিট, আনডিলিট ৩৬০, প্যানডোরা রিকভারি, রিকুভা ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়।

ডিস্ক ড্রিল

আরেকটি জনপ্রিয় অপশন হচ্ছে ডিস্ক ড্রিল। প্রাথমিক পর্যায়ে ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের জন্য এ অ্যাপ্লিকেশনটি ডিজাইন করা হলেও, বর্তমানে উইন্ডোজের জন্য এটি পাওয়া যাচ্ছে।

এটি ভুলবশতঃ ডিলিট করা ফাইল খুঁজে বের করার পাশাপাশি ডিস্কের পার্টিশন লস, হার্ড ড্রাইভ রিফর্মেটিং, ফাইল বুট-আপের মতো বিশেষ বিশেষ কাজের সুবিধা প্রদান করবে।

ফাইলের অন্যান্য নিরাপত্তা

ড্রপবক্স, আইক্লাউড, স্কাইড্রাইভ ও গুগলড্রাইভের মতো কিছু সার্ভিস আছে, যা আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সংরক্ষণের সুবিধা প্রদান করে। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো এসব সার্ভারে আপলোড করে রাখতে পারবেন। প্রয়োজনের সময় বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের যে কোনো কম্পিউটার থেকে সার্ভারে প্রবেশ করলে তা পেয়ে যাবেন।

তাছাড়া আপনি যদি ফাইলটি কাউকে ইমেইল করে থাকেন, তবে ইমেইলের সেন্ট অপশন থেকে তা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।  সুত্রঃ বাংলাদেশ সময়

Facebook Comments